
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ের উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। “রেলওয়ের উচ্ছেদে অনিয়মের অভিযোগ” শিরোনামে গত ০৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি শাখা।
প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, সংবাদে পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে কলোনিতে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে টাইগারপাস-দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে অবস্থিত কিছু গুদাম অক্ষত থাকার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে বিভ্রান্তিকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছেদ কার্যক্রমের নির্ধারিত এলাকা ছিল কেবল পলোগ্রাউন্ডস্থ রেলওয়ের সরকারি আবাসিক কলোনি এবং এর আশপাশে অবৈধভাবে দখলকৃত স্থাপনা। ব্রিজের নিচে অবস্থিত গুদামগুলো উক্ত অভিযানের আওতাভুক্ত ছিল না।
রেলওয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য জায়গা প্রস্তুত করা। এ অভিযানে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উপস্থিতিতে তা সম্পন্ন হয়।
বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তারা বলেন, উচ্ছেদ কার্যক্রম শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
তারা আরও বলেন, “নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক” সূত্রের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। এতে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, যাচাই-বাছাই ছাড়া একপাক্ষিকভাবে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশিত সংবাদের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর অংশসমূহ প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুমাননির্ভর ও যাচাইবিহীন সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।