চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে ভোররাতেই অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর ৪টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে একাধিক ভারী যন্ত্রপাতি জব্দ ও বিকল করা হয় এবং এক ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাপিতের চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি স্ক্যাভেটর ও তিনটি ডাম্পার জব্দ করা হয়। একই সময়ে মৌলভীর দোকান সংলগ্ন জাফর আহমেদ চৌধুরী কলেজ এলাকার পাশেও অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পেয়ে আরও দুটি স্ক্যাভেটর বিকল করে দেওয়া হয়, যাতে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে আর ব্যবহার করা না যায়।
অভিযান চলাকালে অকৃষি জমিতে মাটি কাটার অনুমতি নিয়ে কৃষিজমির মাটি কাটার অভিযোগে উত্তর ছদাহার এলাকার মো. সোহেল (৪০)-কে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। এ সময় তার সঙ্গে আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে তা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। এসব অনিয়ম রোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ এ ধরনের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, গত প্রায় আট মাস ধরে প্রশাসনের অভিযান চললেও অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেকেই এটিকে “চোর-পুলিশ খেলা” হিসেবে উল্লেখ করে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, অভিযানের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ ও নজরদারি জোরদার করা না হলে এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে না।