চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মনেয়াবাদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রিয় খতিব মাওলানা আরিফুল ইসলাম জিহাদীর বিদায় যেন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না—এ ছিল ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর স্মৃতির এক আবেগঘন বহিঃপ্রকাশ। মুসল্লী ও এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে অশ্রুসজল, হৃদয়ছোঁয়া এক মিলনমেলা।
মনেয়াবাদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি লায়ন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জামশেদ গিয়াসউদ্দিন, সাতকানিয়া দাফন কাফন সেবা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ আকতার উদ্দিন, তৌহিদ খান, শিবলু, নাঈম উদ্দিন, কোরবান আলী, আব্দুর রশিদ, পেশ ইমাম রাশিদুল ইসলামসহ অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ ও এলাকাবাসী।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এক পবিত্র আবহ তৈরি হয়। এরপর একে একে বক্তারা যখন মাওলানা আরিফুল ইসলাম জিহাদীর কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ করতে থাকেন, তখন অনেকের চোখে ভেসে ওঠে অশ্রু। তাঁর দ্বীনি খেদমত, মানুষকে সৎপথে আহ্বান, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা—সবকিছুই যেন আজ স্মৃতির পাতায় একে একে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
বিদায়ী খতিবের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে মানপত্র পাঠ করা হয়। ফুলেল শুভেচ্ছা আর সম্মাননা স্মারকে ভরে ওঠে মঞ্চ। কিন্তু এসবের মাঝেও ছিল বিচ্ছেদের বেদনা—যেন প্রিয় একজন অভিভাবককে বিদায় জানানোর কষ্ট।
বক্তারা বলেন, “মাওলানা আরিফুল ইসলাম জিহাদী শুধু একজন খতিব নন, তিনি এই এলাকার মানুষের হৃদয়ের একজন আপনজন। তাঁর কণ্ঠে খুতবা শুনে, তাঁর উপদেশে অনুপ্রাণিত হয়ে বহু মানুষ সঠিক পথে ফিরে এসেছে।”
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন বিদায়ী বক্তব্য দিতে দাঁড়ান মাওলানা আরিফুল ইসলাম জিহাদী। কণ্ঠে আবেগ, চোখে অশ্রু নিয়ে তিনি বলেন, “আমি কোথাও এমন ভালোবাসা পাইনি। অনেক জায়গায় খতিবদের বিদায় হয় নিরবে, কিন্তু আপনারা আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলব না।” তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দোয়া কামনা করেন।
শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। দোয়ার সময় অনেককেই চোখ মুছতে দেখা যায়—যেন বিদায়ের এই মুহূর্ত কেউ মেনে নিতে পারছিলেন না।
এই বিদায় অনুষ্ঠান প্রমাণ করে, ভালোবাসা আর সম্মান দিয়ে গড়ে ওঠা সম্পর্ক কখনো শেষ হয় না—তা থেকে যায় মানুষের হৃদয়ের গভীরে, আজীবন।