জগৎপুজ্য মহামানব গৌতম বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা (আন্তর্জাতিক ভেসাখ ডে) উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার (সাংঘিক)’র উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিহারের উপাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু।
সভায় শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে বক্তব্য রাখেন ভদন্ত জে বি এস আনন্দবোধি ভিক্ষু, ভদন্ত ড. সুমনপ্রিয় মহাস্থবির, ভদন্ত নন্দবোধি ভিক্ষু, ভদন্ত জ্ঞানপ্রিয় ভিক্ষু, ভদন্ত জয়জ্যোতি স্থবির, ভদন্ত বিমলানন্দ স্থবির, ভদন্ত প্রিয়বোধি ভিক্ষু, ভদন্ত জ্ঞানবোধি ভিক্ষু, ভদন্ত শীলবোধি ভিক্ষু ও ভদন্ত পঞঞাবোধি ভিক্ষু প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকা এবং ভিক্ষু-শ্রমণের মতামতের ভিত্তিতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ভোর ৫টায় বিশ্বশান্তি কামনায় পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের বন্দনা ও প্রার্থনা, সকাল ৬টায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৯টায় সম্মিলিত বুদ্ধ পূজা, শিবলী পূজা, সমবেত প্রার্থনা, পুণ্যার্থীদের পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ এবং সদ্ধর্ম দেশনা। এছাড়া বুদ্ধজয়ন্তী ২৫৭০ বুদ্ধাব্ধ উপলক্ষে কেক কাটা, সকাল ১০টায় শান্তি শোভাযাত্রা, সকাল ১১টায় ভিক্ষুসংঘের আহার গ্রহণ, বিকাল ৩টায় ধ্যানানুশীলন, বিকাল ৪টায় আলোচনা সভা, সন্ধ্যা ৬টায় প্রদীপ প্রজ্বলন ও প্রার্থনা এবং সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করতে সভায় একটি উদযাপন পরিষদ গঠন করা হয়। এতে অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষুকে সভাপতি, ভদন্ত জে বি এস আনন্দবোধি ভিক্ষুকে সাধারণ সম্পাদক এবং ভদন্ত ড. সুমনপ্রিয় মহাস্থবিরকে অর্থ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন— সাংগঠনিক সম্পাদক ভদন্ত নন্দবোধি ভিক্ষু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ভদন্ত জ্ঞানপ্রিয় ভিক্ষু, আপ্যায়ন সম্পাদক ভদন্ত জয়জ্যোতি স্থবির, সহ-আপ্যায়ন সম্পাদক ভদন্ত বিমলানন্দ স্থবির এবং সদস্য হিসেবে ভদন্ত প্রিয়বোধি ভিক্ষু, ভদন্ত জ্ঞানবোধি ভিক্ষু, ভদন্ত শীলবোধি ভিক্ষু ও ভদন্ত পঞঞাবোধি ভিক্ষু।
সভায় বক্তারা বলেন, বুদ্ধ পূর্ণিমা মানবজাতির শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা বহন করে।
যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।