চট্টগ্রাম নগরীর সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত প্রচার চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে চট্টগ্রাম নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বাস্তবে নগরী পানির নিচে তলিয়ে যায়নি; ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক জলজট সৃষ্টি হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) চট্টগ্রামে বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে দ্রুত চট্টগ্রামে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন।
তিনি বলেন, “যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবে তেমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখিনি। হঠাৎ ৮০ থেকে ৯০ মিলিমিটার ভারী বৃষ্টি হলে স্বাভাবিকভাবেই পানি সরতে কিছুটা সময় লাগে। এটিকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা বলা যাবে না, এটি সাময়িক জলজট।”
তিনি আরও বলেন, নগরীর ৩৬টি খালের মধ্যে কয়েকটিতে চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়েছিল।
বিশেষ করে রিটার্নিং ওয়াল ও অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতার কারণে কিছু এলাকায় পানি জমে যায়। তবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বিতভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়েছে।
বর্ষাকালের আগে আপাতত ড্রেন ও খাল উন্নয়নকাজ সীমিত রাখা এবং চলমান প্রকল্পের ব্যারিকেড ও রিটার্নিং ওয়াল অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। বর্ষা শেষে পুনরায় উন্নয়নকাজ শুরু হবে।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হলে স্থায়ী সমাধান আরও দৃশ্যমান হবে।
তিনি বলেন, “স্বাভাবিক বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হবে না। তবে অতিভারী বর্ষণে কয়েক ঘণ্টার জলজট তৈরি হতে পারে, যা বিশ্বের অনেক শহরেই দেখা যায়।”
সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে মেয়রের নেতৃত্বে সব সেবা সংস্থাকে নিয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করবে।
তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় চলমান প্রকল্পের কারণে সাময়িক জলজট হয়েছে, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা কথা বলব এবং সহযোগিতার চেষ্টা করব।”
মেয়র আরও বলেন, “৩০ বছরের একটি সমস্যা সমাধানে আমরা সিডিএ, সেনাবাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করছি। প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে সমন্বিত কমিটি গঠিত হলে কাজের গতি আরও বাড়বে।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।