চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা কলেজ বাজার এলাকায় কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও কফি হাউজে আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাপড় ও পার্টিশন দিয়ে ঘেরা এসব রেস্টুরেন্টে স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে কিশোর-কিশোরীরা সময় কাটাচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে।
অভিযোগ রয়েছে, “সাফা মারওয়া”, “তাজমহল” ও “হাইওয়ে”সহ কয়েকটি রেস্টুরেন্টে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তিগতভাবে বসার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভেতরে উঁচু সোফা ও আলাদা পার্টিশনের মাধ্যমে এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাইরে থেকে ভেতরের কার্যকলাপ সহজে দেখা না যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই কলেজ বাজার এলাকার কিছু রেস্টুরেন্টে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের আনাগোনা বেড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রেস্টুরেন্ট মালিকরা বিষয়টি জেনেও নীরব ভূমিকা পালন করছেন। বরং বাইরের কেউ যেন কিছু বুঝতে না পারে, সে জন্য ভেতরে আলাদা পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতেও এসেছে। ভিডিওগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপের সত্যতা মিলেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেখানে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সম্প্রতি এক নারী গ্রাহক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, দুই বান্ধবী মিলে কফি খেতে কলেজ বাজারের কয়েকটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও স্বাভাবিক পরিবেশ পাইনি। এমন পরিস্থিতি ছিল যে, আমাদের লজ্জিত হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো রেস্টুরেন্টে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ৩০০ টাকা পর্যন্ত ‘সার্ভিস চার্জ’ নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেস্টুরেন্ট মালিকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা করিম বলেন, অভিভাবকরা সন্তানদের পড়াশোনার জন্য স্কুল-কলেজে পাঠান। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এসব রেস্টুরেন্ট ও কফি হাউজে সময় কাটাচ্ছে। এতে তারা নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচয় গোপন রেখে কয়েকটি রেস্টুরেন্ট পরিদর্শন করা হয়। পরে বিষয়টি প্রমাণসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন হোসেনের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজিব কান্তি রুদ্রের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান কার্যালয়: লুসাই ভবন, ৩০৭নং (তয় তলা), মোমিন রোড, চেরাগী পাহাড়, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম।মোবাইল: 01759337312, 01749336285 E-mail: dailybartatoday@gmail.com Web: www.bartatoday.com
Copyright © 2026 Bartatoday. All rights reserved.