চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন তিনি।
বিশেষ করে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় চসিকের উদ্যোগগুলো ইতোমধ্যে নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ ধারাবাহিকতায় গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জৈবিক প্রযুক্তিনির্ভর মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত উন্নতমানের জৈবিক লার্ভিসাইড পরীক্ষামূলক ও পরিকল্পিতভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর ফল পাওয়া গেছে। প্রচলিত অনেক রাসায়নিকের তুলনায় এ ধরনের জৈবিক প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য অধিক নিরাপদ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। পানিতে প্রয়োগের পর এটি মশার লার্ভার বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার সক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘমেয়াদি মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু স্প্রে কার্যক্রম নয়, বরং উৎসস্থল ধ্বংস ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও কার্যকর ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে নগরবাসীকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দেশে এ ধরনের প্রযুক্তির স্থানীয় উৎপাদনের সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করছেন। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে দেশের মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বর্তমানে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অনেক উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং জনস্বাস্থ্য খাতে গবেষণার সুযোগও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। ফলে এটি শুধু একটি উৎপাদন প্রকল্প নয়, বরং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগর উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, খাল-নালা পরিষ্কার, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।
নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত চিহ্নিতকরণ এবং তাৎক্ষণিক সমাধানে মেয়রের সক্রিয় ভূমিকা ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। নাগরিক সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চসিক প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব সমাধানের সমন্বয়ে কাজ করতে পারলে চট্টগ্রাম একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে।
নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং একটি সত্যিকারের ‘গ্রীন সিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চলমান উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।এই সংস্করণটি সংবাদপত্রের ফিচার বা বিশেষ প্রতিবেদনের উপযোগী করে বিস্তৃত আকারে লেখা হয়েছে এবং ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অভিযোগের পরিবর্তে উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান কার্যালয়: লুসাই ভবন, ৩০৭নং (তয় তলা), মোমিন রোড, চেরাগী পাহাড়, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম।মোবাইল: 01759337312, 01749336285 E-mail: dailybartatoday@gmail.com Web: www.bartatoday.com
Copyright © 2026 Bartatoday. All rights reserved.