চট্টগ্রাম মহানগরীর অক্সিজেন-কোয়াইশ সড়কে ফুটপাত ও পানি চলাচলের ড্রেন দখল করে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। সোমবার সড়কের সংস্কার কাজ পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দখল হওয়া ড্রেন দ্রুত উদ্ধার করার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনের সময় সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, “অপকর্ম করবে কিছু মানুষ, আর দায় দেওয়া হবে সিডিএকে। ড্রেনগুলো সিডিএর কেউ বন্ধ করেনি। যেখানে রাস্তার পানি নামার কথা, সেখানে পথ বন্ধ করে রাস্তা ড্রেনের চেয়ে উঁচু করে ফেলা হয়েছে। ড্রেনের মুখ ময়লা দিয়ে ভরাট করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
সোমবার সকালে পরিদর্শনের শুরুতেই তিনি সড়কের প্রবেশমুখ থেকে ফুটপাত দখল করে বসানো কয়েকশ অবৈধ দোকান সরিয়ে দেন। এ সময় দখলদারদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “ফুটপাত দখলের কারণে চার লেনের সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে দুটি যানবাহন একসঙ্গে চলাচল করতে পারছে না। ফল, জুতা ও কাপড়ের সারি সারি দোকান বসিয়ে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া ড্রেন ঢালাই করে দোকানের অংশে যুক্ত করায় রক্ষণাবেক্ষণও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সিডিএ নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালাবে, যাতে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত ড্রেনে নেমে যেতে পারে।
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান সিডিএ চেয়ারম্যান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা যাবে না। কোনো দোকানিকে ড্রেনে ময়লা ফেলতে দেখলে তাকে সচেতন করবে। নিজেদের দোকান ও বাসার পাশাপাশি সামনের অংশও পরিষ্কার রাখতে হবে।”
পরিদর্শনকালে তিনি সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল ও সচিব মাহবুবউল করিমকে দখল হওয়া ড্রেনের ঢালাই ভেঙে উদ্ধার এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে প্রয়োজনীয় স্লাব বসানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, “কেউ ড্রেনে ময়লা ফেললে কিংবা দোকানের সামনের অংশ অপরিষ্কার রাখলে তার বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সংস্কার কাজে ব্যবহৃত ইট, বালু ও সিমেন্টের গুণগত মানও সরেজমিনে যাচাই করেন সিডিএ চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্টদের টেকসই ও মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
পরবর্তীতে তিনি অনন্যা আবাসিক এলাকা পরিদর্শন করেন এবং অক্সিজেন-কোয়াইশ সড়কের কোয়াইশ প্রান্তে একটি পানির ফোয়ারা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ফোয়ারাটির নকশা আরও নান্দনিক ও আকর্ষণীয় করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান কার্যালয়: লুসাই ভবন, ৩০৭নং (তয় তলা), মোমিন রোড, চেরাগী পাহাড়, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম।মোবাইল: 01759337312, 01749336285 E-mail: dailybartatoday@gmail.com Web: www.bartatoday.com
Copyright © 2026 Bartatoday. All rights reserved.