আষাঢ় মাসের ২০ তারিখ পেরিয়ে গেলেও বর্ষার স্বাভাবিক চিত্রের দেখা নেই। আকাশে মেঘ থাকলেও বৃষ্টির দেখা মিলছে না। বরং তীব্র রোদ, ভ্যাপসা গরম এবং অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাতকানিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১টায় সাতকানিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম হলেও ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় দুপুরের দিকে প্রচণ্ড তাপদাহে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা । তবে দেখা মিলছে শ্রমজীবী মানুষের, আবার অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না বেশির ভাগ মানুষ । দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠের ফসল ও গাছপালার ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত গরমে কলাগাছের পাতাও শুকিয়ে যেতে দেখা গেছে।
বইয়ের পাতায় আষাঢ় ও শ্রাবণকে বর্ষাকাল হিসেবে উল্লেখ থাকলেও চলতি মৌসুমে তার তেমন কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বর্ষাকাল চললেও বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর, হকার ও শ্রমজীবীরা জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড রোদের মধ্যেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অতিরিক্ত গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
অন্যদিকে, তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
স্থানীয় কয়েকজন রিক্সা, ভ্যান চালক ও শ্রমজীবী মানুষের সাথে কথা হলে তারা জানান, আষাঢ় মাসে এমন তীব্র গরম আগে খুব কমই দেখা গেছে। গরমের কারণে রাস্তাঘাটে, মাঠে যারা কাজ করছে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে, এতটাই গরম, যেন মনে হচ্ছে গায়ের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। একদিকে প্রচন্ড গরম অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং। দিনের বেলায় প্রচন্ড গরমে কাজ করছি আবার রাতের বেলায় লোডশেডিং এর কারণে ঘুমাতেও পারছি না, এমন অবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। তবে ততদিন পর্যন্ত তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরম থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান কার্যালয়: লুসাই ভবন, ৩০৭নং (তয় তলা), মোমিন রোড, চেরাগী পাহাড়, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম।মোবাইল: 01759337312, 01749336285 E-mail: dailybartatoday@gmail.com Web: www.bartatoday.com
Copyright © 2026 Bartatoday. All rights reserved.