বিগত চার মাস ধরে বিভিন্ন আইনি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তাকে জাতীয় সংসদে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেন, নানা ষড়যন্ত্র ও আইনি লড়াই অতিক্রম করে জনগণের রায়ের শক্তিতেই তিনি শেষ পর্যন্ত সংসদে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন সরোয়ার আলমগীর। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংসদে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি অভিযোগ করেন, গত চার মাস ধরে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনি জটিলতায় ফেলে সংসদে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তার নির্বাচনী এলাকা ফটিকছড়ির জনগণ একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মাধ্যমে যে সাংবিধানিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার কথা ছিল, তা থেকে দীর্ঘ সময় বঞ্চিত থেকেছে।
ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে সরোয়ার আলমগীর বলেন, সূর্য সেন, প্রীতিলতা ও মনিরুজ্জামান ইসলামবাদীর স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ঘাঁটি। তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংকটে পড়লে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে স্বাধীনতার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তিনি আরও বলেন, ফটিকছড়ি ছিল শহীদ জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত প্রিয় একটি নির্বাচনী এলাকা। এই আসনের জনগণ বিপুল ভোটে তাকে নির্বাচিত করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন উপহার দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিজের বিরুদ্ধে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নানা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সরোয়ার আলমগীর বলেন, যারা ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের কথা বলেন, তারাই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যাংক মামলা না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনের ঠিক আগে পর্যন্ত আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে এবং হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মাত্র ছয় দিনের নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ফটিকছড়ির মানুষ সব ষড়যন্ত্রের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিয়েছেন। জনগণ তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার প্রাপ্ত ভোটের অর্ধেকেরও কম ভোট পেয়েছেন।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করেই তিনি সংসদে এসেছেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং জনগণের রায়ই চূড়ান্ত।
ফটিকছড়ির রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দিনের পর এই প্রথম তিনি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকেও নির্মম পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বর্তমান সময়েও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ফটিকছড়ির জনগণকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে ফটিকছড়ির দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সরোয়ার আলমগীর। স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের প্রতি এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে নানা প্রতিকূলতা ও চাপের মধ্যেও তাকে ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদে পাঠানোর জন্য ফটিকছড়ির সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান কার্যালয়: লুসাই ভবন, ৩০৭নং (তয় তলা), মোমিন রোড, চেরাগী পাহাড়, কোতোয়ালি, চট্টগ্রাম।মোবাইল: 01759337312, 01749336285 E-mail: dailybartatoday@gmail.com Web: www.bartatoday.com
Copyright © 2026 Bartatoday. All rights reserved.