গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (সিআইপি-CIP) হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় এবং চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাফরাবাদ ফাজিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিনের অবদান ও পৃষ্ঠপোষকতার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী ও শিল্পোদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম রাহী-কে সংবর্ধনা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এ উপলক্ষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশ, সংবর্ধনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শফিকুল ইসলাম রাহী একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা এবং আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় জাফরাবাদ ফাজিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সিআইপি হিসেবে শফিকুল ইসলাম রাহীর স্বীকৃতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি সমগ্র চন্দনাইশবাসীর জন্য গৌরব ও সম্মানের বিষয়। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি যেমন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন, তেমনি সমাজসেবক হিসেবে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মানবকল্যাণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগীদের শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। শফিকুল ইসলাম রাহীর মতো ব্যক্তিদের উদ্যোগ ও অবদান নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবসেবা এবং শিক্ষার প্রসারে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর সম্মাননা দেশের ব্যবসায়ী সমাজের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে শফিকুল ইসলাম রাহীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং উত্তরীয় তুলে দেওয়া হয়। পরে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম রাহী বলেন,
“আমি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আমাকে সিআইপি হিসেবে যে সম্মান দিয়েছে, এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের ও দায়িত্বের বিষয়। একই সঙ্গে আমার প্রাণের প্রতিষ্ঠান জাফরাবাদ ফাজিল মাদ্রাসা আমাকে যে সম্মাননা প্রদান করেছে, তা আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই মাদ্রাসার সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমি চেষ্টা করেছি প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকার। ভবিষ্যতেও শিক্ষা বিস্তার, দ্বীনি শিক্ষার উন্নয়ন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ। শিক্ষা হলো একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সমাজের সকল বিত্তবান ও সচেতন মানুষকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
তিনি বলেন, “রাষ্ট্র আমাকে যে মর্যাদা দিয়েছে, তা যেন মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কাজ করার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে সমাজের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া আমার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান। আমি চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম সৎ, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক এবং দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিক।”
শেষে তিনি মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং উপস্থিত সকল অতিথির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়ন ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠান শেষে শফিকুল ইসলাম রাহীর সম্মানে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পরে অতিথিদের মাঝে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হয়।