
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৭ ডিসেম্বর (রবিবার) বাদ এশা রাত ৮টায় মোঃ নাছির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এন এস এন কনসোর্টিয়াম লিঃ, তাঁর শ্রদ্ধেয় ও বুজুর্গ মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় নিজ বাড়িতে আয়োজন করেন এক ব্যতিক্রমী দোয়ার মাহফিল।
এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে তার পুরো বাড়ি পরিণত হয়েছে ধর্মীয় আবহ, মানবিকতা ও মহব্বতের এক অনন্য দরবারে।

মায়ের প্রতি সন্তানের অগাধ ভালোবাসা
নাছির উদ্দিনের মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা শুধু সন্তানের দায়িত্ব নয়, বরং গভীর আধ্যাত্মিক শ্রদ্ধা ও ভক্তির বহিঃপ্রকাশ। মা অসুস্থ হওয়ার পর থেকে এবং মৃত্যুর পর প্রতিদিন তার বাড়িতে চলছে মেজবান-সদৃশ আপ্যায়ন। শতশত মানুষ প্রতিদিন আসছেন, দোয়া করছেন এবং ভালোবাসা নিয়ে খেয়ে যাচ্ছেন।

রান্নাঘরের প্রতিটি কাজে নাছির সাহেবের নিজে তদারকি করছেন। এই বিশাল আয়োজনের পেছনে তার কোনো ব্যক্তিগত কেনাকাটা নেই; মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দোয়ার প্রতিদান হিসেবেই তিনি এ ব্যয় বহন করছেন।
মায়ের কবর থেকে শুরু বিশেষ আয়োজন
আজকের বিশেষ আয়োজন শুরু হয় মরহুমা মায়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে তার দীর্ঘ মুনাজাতের মাধ্যমে। চোখ ভেজানো সেই প্রার্থনায় তিনি বলেন—“হে আল্লাহ, আমাদের এ আয়োজনকে কবুল করুন, বরকত দান করুন। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—আপনাকে খুশি করা।”
মোনাজাতে তিনি আরও দোয়া করেন—প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত ও মোহাব্বতের প্রতি অটল থাকার জন্য। পাশাপাশি নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানী, শ্বশুর-শাশুড়ি—এমনকি বাবা আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.) থেকে শুরু করে সমস্ত নবী-রাসূল, সহাবায়ে কেরাম এবং তার পরিবারের সকল মৃত মুসলমানের রুহের মাগফিরাত ও ইসালে সওয়াবের জন্যও তিনি প্রার্থনা করেন।
মানবিকতা ও দানের অনন্য উদাহরণ
নাছির উদ্দিন নীরব দানের মানুষ—যে দান ডান হাত দেয়, বাম হাতও টের পায় না। প্রতিবেশী, অসহায়, এতিম, মুসাফির—সবাইকে তিনি নিয়মিত সাহায্য করেন। তার এই মানবিকতা তাকে সমাজে এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
৩৫ হাজার মানুষের জন্য রাতভর রান্না
এ আয়োজনের পরিসর এতটাই বিস্তৃত যে রাতভর বিশাল পরিমাণ খাবার রান্না চলবে।প্রথমে পরিকল্পনা ছিল ২০ হাজার মানুষের, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা, উপহার ও সহযোগিতায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের খাবারের আয়োজনে।
বাংলাদেশের একটি বৃহৎ শিল্প গ্রুপ—চট্টগ্রামেরই কৃতি সন্তান—উপহার হিসেবে দিয়েছেন ১০টি গরু।
মোট রয়েছে ২৮টি গরু, মহিষ এবং ২০টি ছাগল—যা দিয়ে বিশেষ এই আপ্যায়নের রান্নাবান্না চলছে।
সকালে ঘরে ঘরে খাবার বিতরণ
ভোরের আলো ফুটলেই নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে এলাকার বিশাল কর্মী বাহিনী ঘরে ঘরে গিয়ে এসব খাবার পৌঁছে দেবে।
এই খাবার যাবে—
শিলকুপ ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরে।
অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি পরিবারে।
বাঁশখালীর সব মাদ্রাসা ও এতিমখানায়।
রাত জেগে ভালোবাসার রান্নাবান্না…
রাত থেকেই পুরোদমে রান্নাবান্না চলছে।
ভোরে প্রতিটি ঘরে এই খাবার পৌঁছাবে—
হাসিমুখে, আন্তরিকতায়, মানবতার বার্তা নিয়ে।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
বিশাল এই আয়োজনে যারা উপহার দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন ও দোয়া করেছেন—তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নাছির উদ্দিন।
তিনি তার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। এই আয়োজন শুধু একটি দোয়া মাহফিল নয়, বরং দোয়া, দান, ভ্রাতৃত্ব, ধর্মীয় দায়িত্ব ও মানবতার এক অনন্য উদাহরণ।
আল্লাহ তাআলা যেন নাছির উদ্দিন ও তার পরিবারকে উত্তম প্রতিদান দেন,এবং তার মরহুমা মাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মর্যাদা দান করেন—আমিন।