রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে শপিং কমপ্লেক্সে আগুন: এক দোকান পুড়ে ছাই, ৩৩ বছরের স্বপ্ন শেষ মাহাবুবের

জাহাঙ্গীর আলম
  • শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯৭

চট্টগ্রাম নগরীর ২ নম্বর গেটসংলগ্ন একটি শপিং কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন লাগার এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পরপরই চট্টগ্রামের দুটি স্টেশন থেকে পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। তবে শুরুতে ঘন ধোঁয়ার কারণে আগুনের সঠিক উৎস নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার ফাইটাররা মার্কেটের প্রতিটি দোকানের শাটারে হাত দিয়ে তাপমাত্রা যাচাই করে ধাপে ধাপে আগুনের সূত্রপাত শনাক্ত করেন। এভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, নিচতলার ‘রেভন কসমেটিক জুয়েলারি’ নামের একটি দোকান থেকেই আগুনের উৎপত্তি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আশপাশের অন্য কোনো দোকানে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলেও মার্কেটের ভেতরে এখনও ধোঁয়া রয়েছে এবং ফায়ার ফাইটাররা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করছেন। আগুনের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলেও তিনি জানান।

অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয়েছেন ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মাহাবুব। তিনি জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি প্রথমেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন এবং অন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু নিজের দোকানের আগুনের বিষয়টি তিনি পরে জানতে পারেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাহাবুব বলেন, “সবার আগে অন্যদের নিরাপদে সরাতে ব্যস্ত ছিলাম। পরে জানতে পারি, আমার নিজের দোকানটাই পুড়ে গেছে। ৩৩ বছরের পরিশ্রম এক নিমিষে শেষ হয়ে গেল।”

তিনি আরও জানান, দোকানের মালামাল, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ মিলিয়ে এক কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। তার স্ত্রীর ওমরা থেকে আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যদের প্রায় ১০ লাখ টাকার আমানতও দোকানে রাখা ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে যদিও শুধুমাত্র একটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সেই ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ। দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ব্যবসা হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মাহাবুব। ঘটনাটি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিস তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর