রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

চন্দনাইশে প্রথমবার সম্মিলিত বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা: চারদিনের বর্ণিল আয়োজন

চন্দনাইশ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম
  • রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৬

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে সম্মিলিত বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা। চারদিনব্যাপী এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি হবে চন্দনাইশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বৈশাখী উৎসবগুলোর একটি।

এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনবোধের প্রতিফলন। পহেলা বৈশাখ শুধু একটি নতুন বছরের সূচনা নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষিভিত্তিক সমাজ ও সামাজিক সম্প্রীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি সর্বজনীন উৎসব।
মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা সনের প্রবর্তন কৃষি কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনে, যা আজও প্রাসঙ্গিক।

তারা আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ নতুন উদ্দীপনা ও সম্ভাবনার বার্তা বহন করে। পুরনো বছরের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয় এই উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন আহমেদের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে “সম্মিলিত বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা পরিষদ”-এর ব্যবস্থাপনায় আগামী ১৪ থেকে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ (১ থেকে ৪ বৈশাখ ১৪৩৩) পর্যন্ত গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৮টায় বরুমতি ব্রিজ থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য ও শান্তিপূর্ণ বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হবে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ থাকবে, যা পুরো আয়োজনকে উৎসবমুখর করে তুলবে।

মেলার উদ্বোধনের পর প্রতিদিন দিনব্যাপী চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, লোকজ পরিবেশনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে থাকছে।

মেলায় প্রায় দুই শতাধিক স্টল বসবে, যেখানে স্থানীয় উদ্যোক্তারা কৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পপণ্য, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন। বিশেষভাবে স্থান পাবে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার ঐতিহ্যবাহী পণ্য—হাতপাখা, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী, মৃৎশিল্প, লোহাজাত দ্রব্য, লেবু ও পেয়ারা। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে পান্তা-ইলিশসহ নানা গ্রামীণ খাবারের আয়োজন।

শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য রাখা হয়েছে নাগরদোলা, পাইরেট শিপসহ বিভিন্ন রাইড ও আকর্ষণীয় বিনোদন ব্যবস্থা, যা পরিবারসহ দর্শনার্থীদের জন্য আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই বৈশাখী মেলা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মেলা কমিটির আহ্বায়ক এম এ হাশেম রাজু, মোজাম্মেল হক বেলাল, সিরাজুল ইসলাম সওদাগর, মোর্শেদুল আলম, এ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, নেছার আহমেদ, শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা।

চারদিনব্যাপী এই আয়োজন সফল করতে সাংবাদিক, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকরা। একই সঙ্গে এ আয়োজন গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর