রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন

দেশি শিমের সাফল্য কাহিনি সাতকানিয়ায় — আগাম জাতেই মিলছে ফলনের নিশ্চয়তা

মিজানুর রহমান রুবেল, সাতকানিয়া
  • বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮৮

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় শুরু হয়েছে শীতকালীন সবজি শিম চাষের মৌসুম। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বাঁশের তৈরি মাচায় ইতোমধ্যে কচি ডগায় ফুটতে শুরু করেছে শিমের লাল ফুল। আগাম জাতের শিমক্ষেতে ফলন দেখে নতুন লাভের আশায় উচ্ছ্বসিত কৃষকরা।

সরেজমিনে বাজালিয়া, পুরানগড়, কেওচিয়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়—ক্ষেতে থোকায় থোকায় ধরেছে দেশি জাতের শিম। সবুজ পাতার মাঝে লাল ফুলে শোভা পাচ্ছে শীতকালীন ফসলি জমি। শীত মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও ব্যাপক আবাদ হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে।

শঙ্খনদীর চরের উর্বর মাটির কারণে সাতকানিয়ায় বছরজুড়েই সবজি চাষ হয়। স্বাদে অনন্য এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ শঙ্খচরের সবজির সুনাম থাকায় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরীর চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ অঞ্চল। কৃষকদের মতে, অন্যান্য সবজির তুলনায় শিম চাষে লাভ বেশি হওয়ায় প্রতিবছর এর আবাদ বাড়ছে, বাজারেও রয়েছে ভালো চাহিদা।

কেরানীহাট বাজারে আগাম শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার দেখা যায়—শিম বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, ফুলকপি ১২০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৯০ টাকায়।

বাজালিয়া এলাকার কৃষক শাহ আজিজ জানান, কালিনগরে তিনি ১৭ কানি জমিতে শিম চাষ করেছেন। প্রতি কানিতে খরচ হয়েছে ৪২ হাজার টাকা। তিনি বলেন, “প্রতি কানিতে প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত শিম বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করি। নভেম্বরের শেষ দিকে বাজার ধরতে পারবো। আবহাওয়া এখনো গরম, তবে শীত পড়তে শুরু করলে ফলন আরও ভালো হবে।”

উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে সাতকানিয়ার বিভিন্ন স্থানে ৪৪৫ হেক্টর জমিতে শিম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাজালিয়া ও পুরানগড় ইউনিয়নে বেশি আবাদ হয়েছে। তিনি জানান, ভালো ফলনের জন্য উন্নত জাত নির্বাচন, সঠিক সময়ে চাষ, জৈব সার প্রয়োগ, কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কতা এবং নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।

কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষক—উভয়েরই প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সাতকানিয়ার শিম চাষ এবারও লাভের মুখ দেখাবে এবং বাজারে যোগান নিশ্চিত করবে আগাম মৌসুমেই।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর