
চট্টগ্রামে অবৈধভাবে মাটিকাটা বন্ধের দাবিতে তিন দিনের আলটিমেটাম শেষে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সমাজকর্মী ও এনসিপি নেতা মো. জাহেদুল করিম বাপ্পী। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে জাহেদুল করিম বাপ্পী বিভিন্ন প্রতিবাদী ও সচেতনতামূলক স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এসময় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাউজানসহ আশপাশের এলাকায় অবাধে মাটিকাটা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, অবিলম্বে এই ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তার ভাষ্য, “মাটি আমাদের জীবনের অংশ, কৃষির ভিত্তি। এই মাটি ধ্বংস হলে শুধু কৃষক নয়, পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, রাউজান এলাকায় নির্বিচারে মাটিকাটার ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাসের মতো নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে ফসলি জমি ও পুকুর কাটার কারণে কৃষি উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ মাটিকাটাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মসূচিতে প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল— “মাটি আমার মা, তাকে কাটতে দেব না”, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, মাটি কাটা রুখতে হবে”, “সোনার মাটি কাটা বন্ধ হোক, কৃষকের মুখে হাসি ফুটুক”, “ফসলি জমির মাটি কাটা আইনের চোখে অপরাধ, দেশের জন্য সর্বনাশ”, “মাটিখেকোদের ধর, আইনি শাস্তি দে” এবং “উর্বর মাটি রক্ষা করুন, কৃষি উৎপাদন সচল রাখুন”।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলও অবৈধ মাটিকাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উর্বর কৃষিজমি রক্ষা এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ মাটিকাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।