সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

সরকারি কর্মচারীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শাটডাউন ও কর্মবিরতি

জাহাঙ্গীর আলম
  • রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৯

১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ফোরামের উদ্যোগে যমুনা অভিমুখে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের গুলি, জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শাটডাউন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী চট্টগ্রাম, ৮ ফেব্রুয়ারি (রবিবার)
রেলওয়ে সিসিএস পাহাড়তলী দপ্তরের জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল এবং ১১–২০তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরামের সিসিএস পাহাড়তলী শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন–এর সঞ্চালনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শাখা ও শ্রেণির সরকারি কর্মচারীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের সকল সরকারি কর্মচারী ফোরামের সাথে সংহতি প্রকাশ করে শাটডাউন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে একাত্মতা পোষণ করেন রেলওয়ে সরঞ্জাম বিভাগের ১১ থেকে ২০তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরামের নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মো. কামাল হোসেন বলেন,
১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদানের উদ্দেশ্যে যমুনা অভিমুখে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ইন্টেরিম সরকারের নির্দেশনায় রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জলকামান, গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করে। এতে বহু সহকর্মী ভাই-বোন রক্তাক্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, অনেকেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

তিনি বলেন, “এ আন্দোলন কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন নয়। এটি একটি বৈষম্যমূলক জাতীয় নবম পে স্কেল কমিশনের গেজেট জারির দাবিতে ন্যায্য আন্দোলন।”

মো. কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, সরকার বারবার আশ্বাস দিয়েছিল দ্রুত নবম জাতীয় পে কমিশনের রূপরেখা ও গেজেট প্রকাশ করা হবে। এমনকি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও বলা হয়েছিল।তাহলে কেন আজও গেজেট জারি হয়নি—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন,“যদি পে কমিশন বাস্তবায়নের ইচ্ছাই না থাকে, তাহলে কেন রংতামাশার মতো কমিটি গঠন করে রাষ্ট্রের সময় ও অর্থ অপচয় করা হলো? এই ব্যয়কৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া উচিত।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান পে কমিশনের প্রস্তাবিত রূপরেখা আকাশসম বৈষম্যমূলক। যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছে, আজ সেই বৈষম্যই নতুন রূপে ফিরে আসছে।

তারা অবিলম্বে একটি ন্যায্য, মানবিক ও বৈষম্যহীন জাতীয় নবম পে স্কেল কমিশনের গেজেট প্রকাশের দাবি জানান।

কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে সারাদেশে ১১–২০তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরামের উদ্যোগে সড়ক, রেল, নৌ ও বিমানপথ অচল করে দেওয়া হবে।

“পেটের ক্ষুধা যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন কাউকে ছাড় দেওয়া হয় না”—এমন মন্তব্যও করেন নেতারা।

একই সঙ্গে মো. কামাল হোসেন বলেন,আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাতে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে ১১–২০তম গ্রেড সরকারি কর্মচারী ফোরামের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন—রেল শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি আতিকুর রহমান,সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রানা,সৈয়দ আল রাব্বি, মো. দেলোয়ার হোসেন, মোরশেদুল আলম বাদল।

নারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিগার সুলতানা, নিপু রানী রওশন, নুরজাহান আক্তার, নাসরিন আক্তার, মোমেনা বেগম, সারজিনা আক্তার, কামরুন্নাহারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সকল বক্তার একটাই দাবি—অবিলম্বে বৈষম্যহীন জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য মর্যাদা ও কর্মমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

সকল বক্তার একটাই দাবি—
অবিলম্বে বৈষম্যহীন জাতীয় নবম পে কমিশনের গেজেট জারি করে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য মর্যাদা ও কর্মমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

“এ সময় আন্দোলনে আহত সকল নেতৃবৃন্দ ও কর্মচারীদের দ্রুত সুস্থতা ও সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং তাঁদের সুচিকিৎসা কামনা করেন নেতৃবৃন্দ।”

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর