মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন

চন্দনাইশ-সাতকানিয়া সীমান্তে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: মালিকসহ ১০ জন গুরুতর দগ্ধ

মিজানুর রহমান রুবেল, সাতকানিয়া
  • বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৭৫

চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি গ্যাস সিলিন্ডার গুদামে বিস্ফোরণে গুদাম মালিকসহ ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সবাইই গুরুতর Burn (আগুনে দগ্ধ) অবস্থায় রয়েছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার ভোর প্রায় ৬টায় চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডস্থ দ্বীপ চরতী (শফির চর) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত গুদামটির মালিক জানা গেছে, বৈলতলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কবির আহমদের ছেলে মাহবুবুর রহমান (৪৫)।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাহবুব দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। গত কয়েক মাস আগে সীমান্তবর্তী এলাকায় ওই গুদামটি স্থাপন করা হয়। বুধবার ভোরে শ্রমিকরা চা তৈরির জন্য চুলা জ্বালালে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটে — স্থানীয়রা এমনটাই জানায়।

চরতী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মো. মঈনুদ্দিন বলেন, ফজরের নামাজের পর মসজিদ থেকে বের হয়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে গুদামে দাউ দাউ আগুন লেগে ছিল। তিনি জানান, শ্রমিকরা সকালেই চা তৈরি করতে চুলা জ্বালায়; সেখান থেকেই সিলিন্ডারের লিকেজে আগুন লেগে বিস্ফোরণ শুরু হওয়া হয়ে থাকতে পারে।

চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। টিম পৌঁছার আগেই আহতদের স্থানীয় দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

চমেকের বার্ণ ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, আহতদের মধ্যে প্রত্যেকেরই শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি জায়গা বার্ণ হয়েছে। মুখ ও শ্বাসনালীর অভ্যন্তরীণ আঘাত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। চমেকের পরামর্শে সার্জিক্যাল দল আহতদের ঢাকার স্পেশালাইজড বার্ণ ইউনিটে পাঠানোর সুপারিশ করেছেন।

চেষ্টা ও উদ্ধারকাজের বিষয়ে চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান জানান, খবর পেয়ে দুই ইউনিট দ্রুত আসে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আজকের ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে গ্যাস লিকেজকে দায়ী করা হচ্ছে; তবে পুরো তদন্ত শেষে চূড়ান্ত কারণ জানানো হবে।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি গুদামে সিলিন্ডার ক্রস-ফিলিং চলাকালীন আশে-পাশে কেউ ধুমপান করছিলো—তাই সিগারেট বা উন্মুক্ত আগুন থেকেও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চরতী ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা জানান, গুদামটি চার মাস আগে এখানে স্থাপন করা হয়েছিল। স্থানীয়রা বলেছে, মালিক আগেই বৈলতলী ইউনুস মার্কেট ও বুড়ির দোকানে এই ব্যবসা চালাতেন এবং পরে এ এলাকায় গুদাম করেছেন।

আহতদের নাম ও বয়স (প্রাথমিক):

মাহবুবুর রহমান, ৪৫ (গুদাম মালিক)

সৌরভ রহমান, ২৫ (শ্রমিক)

কফিল উদ্দিন, ২২ (শ্রমিক)

রিয়াজ, ১৭ (শ্রমিক)

ইউনুস, ২৬ (শ্রমিক)

আকিব, ১৭ (শ্রমিক)

হারুন রশিদ, ২৯ (শ্রমিক)

ইদ্রিস, ৩০ (শ্রমিক)

মোহাম্মদ লিটন, ২৮ (শ্রমিক)

ছালেহ আহমদ, ৩৩ (শ্রমিক)

আহতদের অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্তে মনোনীত টিম দ্বারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর