
এলডিপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, “যে সন্তান মা-বাবাকে কাঁদতে বাধ্য করে, তার ইহকাল ও পরকাল— উভয়ই ধ্বংস হয়ে যায়। প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত পিতা-মাতা, শিক্ষক ও মুরব্বিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রদর্শন শেখা।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ের নেতিবাচক পরিবর্তন সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। নৈতিক শিক্ষা হারিয়ে যাচ্ছে, সমাজে শ্রদ্ধা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে— এটি আমাদের সবার জন্য চিন্তার বিষয়।”
নিজের বক্তব্যে কর্ণেল অলি তাঁর ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুকের শিক্ষা ও কর্মজীবনের উদাহরণ টেনে বলেন, “তিনি ২২ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর মতো মেধাবী ও সম্মানিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্র পরিচালনায় সুযোগ দিতে হবে। আমি আমার ছেলেকে দেশের সেবায় জনগণের হাতে ছেড়ে দিয়েছি, কারণ যোগ্য মানুষদের এগিয়ে আসতে দিতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনে আমি ২৯টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২৪টিতে দায়িত্ব পালন করেছি, অসংখ্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছি— এত বর্ণাঢ্য জীবন অন্য কোনো নেতার নেই বললেই চলে।”
নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতি স্মরণ করে কর্ণেল অলি বলেন, “আমার স্কুলজীবনের শিক্ষক চিত্তরঞ্জন দাশের প্রতি আজও আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা অনুভব করি। শিক্ষকের প্রভাব মানুষকে আজীবন আলোকিত রাখে।”
গত বুধবার (৬ নভেম্বর) সকালে চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া মমতাজ বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. আজিজুল্লাহ। প্রধান আলোচক ছিলেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন।
প্রভাষক মো. নাজিম উদ্দীনের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন অভিভাবক সদস্য আবুল কাশেমসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—এলডিপি নেতা আবদুল মাবুদ, মো. মহিউদ্দীন, খোরশেদ আলম সবুজ, মো. মোজাম্মেল হক তালুকদারসহ কলেজ পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি।