মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

জেলেদের মানবিক সংকটে সরকারি হস্তক্ষেপ: সন্দ্বীপে ৩৪ পরিবার পেল সহায়তা

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০৪

চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ চ্যানেলে ফেরি চালু হওয়ায় জেলেদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারি উদ্যোগে ৩৪টি জেলে পরিবারকে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২৯ নভেম্বর (শনিবার) সন্দ্বীপ উপজেলা কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। মোট বিতরণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ১.৩৬ টন চাল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাপ্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “জ্ঞান–বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জেলেদের মাছ ধরার পদ্ধতি আধুনিকায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ছেলে–মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করে পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে।”

উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, “স্যার বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, পড়িয়েছেনও। তাঁর লেখা বই বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। আপনারাও সক্ষম—সুযোগ ও সহায়তা পেলে আপনাদের সন্তানরাও এগিয়ে যেতে পারবে।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, “২৪ তারিখে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান স্যার আমাকে ফোন করে জেলেদের সমস্যার কথা জানান। ফেরি চলাচলের কারণে তারা মাছ ধরতে পারছেন না—এমন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ব্যবস্থা নেই। ইউএনও থেকে জেনে বুঝেছি, ৩৪ জন জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। তাই দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের জন্য নগদ অর্থ ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “মাছ আমাদের সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় কখনো কখনো কিছু নিষেধাজ্ঞা দিতে হয়। তবে জনগণের কষ্ট কমাতে সরকার সবসময় পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হারামিয়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত জেলে রতি দাস জানান, “ডিসি স্যার আমাদের কষ্টগুলো সরাসরি শুনেছেন। সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতে সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর আচরণে আমরা মানবিকতা পেয়েছি।”

প্রসঙ্গত, সন্দ্বীপ–বাঁশবাড়িয়া নৌ–রুটে ফেরি সার্ভিস চালুর পর নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চ্যানেল এলাকার স্থায়ী জাল অপসারণ ও মাছ ধরা সাময়িক নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সন্দ্বীপের সনাতন ধর্মাবলম্বী জেলে পরিবারগুলো দীর্ঘদিন জীবিকার সংকটে পড়ে।

মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন শনিবার ৩৪ ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদান করে। প্রশাসন জানিয়েছে—জীবিকা সুরক্ষা এবং ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতেও এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর