বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

ভারত–পাকিস্তানকে এক অর্থে মিলিয়ে দিয়ে গেলেন খালেদা জিয়া

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৭

ঢাকায় শোক জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পাকিস্তানের স্পিকার ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিরল কূটনৈতিক দৃশ্যপট তৈরি করেছে।

উপমহাদেশের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানকে এক অর্থে একই কাতারে দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেলেন বাংলাদেশের এই প্রভাবশালী রাজনীতিক। তার মৃত্যুতে শোক জানাতে ঢাকায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আলাদা আলাদা সময়ে তারা ঢাকায় পৌঁছান এবং মরহুমার জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নেন। এটি কেবল একটি শোক সফর নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে ঢাকায় উপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে বৈরী সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক গুরুত্ব ও আঞ্চলিক প্রভাব এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছিল, যেখানে তার মৃত্যুতে শোক জানাতে দুই দেশের প্রতিনিধিরাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন। এতে প্রমাণিত হয়, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ অবস্থান কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

ঢাকায় অবস্থানকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শোকবার্তা পৌঁছে দেন। পাকিস্তানের স্পিকার মরহুমার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে শোক ভাগ করে নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তার নেতৃত্বকাল শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আঞ্চলিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে। মৃত্যুর পর ভারতের মতো ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের মতো দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের একসঙ্গে শোক প্রকাশ সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, জীবনের শেষ অধ্যায়েও বেগম খালেদা জিয়া এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে গেছেন—সংঘাত ও বৈরিতার মাঝেও শোক, মানবিকতা ও সম্মানবোধ দেশগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ সূত্র হতে পারে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকায় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের এই উপস্থিতি শুধু শোক প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব ও উত্তরাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর