
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়েও মিলছে না গ্যাস। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।
সরকার নির্ধারিত হিসাবে ১২ কেজির একটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য প্রায় ১ হাজার ২৫৩ টাকা হলেও সাতকানিয়ার বিভিন্ন বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। সর্বশেষ ৩ জানুয়ারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানে বেশি দাম দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় ভোক্তারা অভিযোগ করে জানান, গত এক সপ্তাহ ধরেই এই অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো নজরদারি বা অভিযান চোখে পড়ছে না। তাদের অভিযোগ, গ্যাস ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট গড়ে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে।
এদিকে সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকার কয়েকজন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কোম্পানির কাছ থেকেই তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। বিক্রেতারা বলেন,
“আমরা সরাসরি কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কিনি। কিন্তু কয়েকদিন ধরে তারা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, গ্যাস আমদানিতে সমস্যার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। এজন্য আপাতত আমাদের কাছেও গ্যাস নেই।”
গ্যাস কিনতে এসে বিপাকে পড়া সাবিনা ইয়াসমিন নামের এক গৃহিণী বলেন, “রান্নার গ্যাস ছাড়া তো চলার উপায় নেই। বাধ্য হয়েই বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে যাবে।”
একই দিনে আরেক ক্রেতা জানান, তিনি পাঁচটি দোকান ঘুরেও কোথাও গ্যাস পাননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“গ্যাস সিলিন্ডার ছাড়া রান্নাবান্না অসম্ভব। এভাবে সংকট হলে মানুষ চলবে কিভাবে? দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু বিক্রেতা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দাম বেশি নেওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সচেতন মহল দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জ্বালানি সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।