
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার আশঙ্কা নতুন করে দেখা দিয়েছে। উপজেলার ঢেমশা ও নলুয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় সম্প্রতি পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু হওয়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এলাকাবাসী ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলমান পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রমটি কোনো সেচ প্রকল্প কিংবা চাষাবাদের স্বার্থে নয়। বরং ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই জমিতে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, গত কয়েক বছরে এই অঞ্চল থেকে একাধিক ইটভাটার জন্য নির্বিচারে মাটি নেওয়া হয়েছে। এতে বহু একর আবাদি জমি ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেক জমি এখন গভীর গর্তে পরিণত হয়ে জলাশয় কিংবা ছোটখাটো সাগরের মতো অবস্থায় রয়েছে, যেখানে আর চাষাবাদ সম্ভব নয়।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, “আমরা ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে এই জমিতে ফসল ফলাচ্ছি। কিন্তু অবৈধ মাটি কাটার কারণে আমাদের জমি আজ বিলুপ্তির পথে। আবার যদি মাটি কাটা শুরু হয়, তাহলে আমাদের জীবিকা একেবারে শেষ হয়ে যাবে।”
কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে এই এলাকার উর্বর কৃষিজমি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। তারা অবিলম্বে মাটি কাটার প্রস্তুতি ও পানি নিষ্কাশনের কাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পানি নিষ্কাশন ও সম্ভাব্য অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, চাষাবাদের জন্য পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সাতকানিয়ার এই উর্বর কৃষিভূমি চিরতরে হারিয়ে যাবে, যা কৃষি ও পরিবেশ—উভয়ের জন্যই মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।