
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছে সংগঠনটি। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং সড়কের উভয় পাশে দুই কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে যানবাহন আটকা পড়ে।
১৭ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া কলেজ গেট এলাকায় মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আন্দোলনকারীরা জানান, গত ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে পটিয়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের নগরপাড়া এলাকায় মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বহনকারী একটি অটোরিকশা থামিয়ে হামলা চালায়। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ (২২) ও মো. মাঈন উদ্দীন (২১) আহত হন।
আহতদের চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে হাসনাত আবদুল্লাহকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়।
ঘটনার পর আহতরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

খবর পেয়ে চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইলিয়াছ খাঁন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।
অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকারীরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি তারা চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমেদের প্রার্থিতা বাতিল, তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার, তার অবৈধ সম্পদ জব্দ এবং তার নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কারী এম এ হাশেম রাজুকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এসব দাবি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার সোহানুর রহমান সোহাগ, ওসি মো. ইলিয়াছ খাঁন এবং মেজর আসিফ মাহমুদ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করেন।
পরে জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়া হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন। এর পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব তৌহিদুল আলম, চবি সংগঠক এহসানুল হক লাবিব, সাইফুল ইসলাম রাব্বি, সাজ্জাদ হোসেন রাহাত, মো. সাওয়াল, মো. জুবায়ের, হাবিবুর রহমান ও মহানগর সংগঠক সালমান শামীম প্রমুখ।
এদিকে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জসিম উদ্দীন আহমেদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, এই হামলার সঙ্গে তিনি বা তার কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। বরং তার প্রতিপক্ষরা নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার ওসি মো. ইলিয়াছ খাঁন বলেন, “খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নিয়েছি।
ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত। এ বিষয়ে থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”