
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সংঘবদ্ধ হামলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
র্যাব-৭ চট্টগ্রাম সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে র্যাব-৭-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবস্থান নেওয়া অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা মাইক ব্যবহার করে লোকজনকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানায়।
এরপর মুহূর্তের মধ্যেই আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতিকারী দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সংঘবদ্ধ ও আকস্মিক এই হামলায় র্যাবের চারজন সদস্য গুরুতরভাবে আহত হন। হামলার একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে র্যাব সদস্যরা আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নিতে বাধ্য হন।
পরবর্তীতে সীতাকুন্ড থানা পুলিশের সহায়তায় আহত র্যাব সদস্যদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ পাঠানো হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসিও-১০৭৫৯ নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন র্যাব সদস্য বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এ নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
র্যাব ও পুলিশ সূত্র জানায়, এই হামলার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত এবং জড়িতদের গ্রেফতারে যৌথ অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও হামলাকারীদের সংখ্যা নিয়েও যাচাই-বাছাই চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।