
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও আখেরাতের বিষয় নিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ‘টিকিট’ ও ‘কনফার্মেশন’ বেচাকেনার নামে প্রতারণায় জড়িয়েছে। তিনি বলেন, “ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকেট বিক্রি শিরকের পর্যায়ে পড়ে যা আল্লাহর এখতিয়ার, তা কেউ নিজের নামে প্রচার করলে তা শিরিকের পর্যায়ে পড়ে।”
গত রবিবার রাজধানীর ফার্মগেইটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক আলোচনার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবে তিনি বুঝেন—যে ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া আর কারও নেই, সেটির ‘কমিটমেন্ট’ দেওয়া শিরিক। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ঘরে ঘরে গিয়ে বলতে হবে—এ ধরনের প্রচারণা শিরিক। যারা এসব কথা বলে তারা শিরিকে লিপ্ত হচ্ছে, আর তাদের কথা বিশ্বাস করলে আপনিও শিরিকের পর্যায়ে পড়বেন।”
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অমুককে এবারও দেখুন’—এমন প্রচারণা চালাচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, “দেশের মানুষ তাদের একাত্তর সালেই দেখেছে—কিভাবে তারা রাজনৈতিক স্বার্থে লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে, মা–বোনদের ইজ্জত লুট করেছে।”
তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, সামনে দেশের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
“বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে জনগণ এবং পারে বিএনপি—গণতন্ত্রই এর একমাত্র পথ।”
তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা প্রচারণা অতীতের স্বৈরশাসক চালাতো, বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক দল সেই একই সুরে কথা বলছে। তবে তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে অতীতে জোটে থাকা প্রয়াত দুইজন রাজনৈতিক নেতাই খালেদা জিয়ার দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানে আস্থা রেখেই শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে ছিলেন।
“আজ নিরপেক্ষ আদালত বলছে—তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সব ছিল প্রোপাগান্ডা।”
তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রথম পদক্ষেপ হবে দুর্নীতি ও আইন–শৃঙ্খলার লাগাম টেনে ধরা।
“এই দুই খাত ঠিক না থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও নারীর ক্ষমতায়নের মতো জাতীয় পরিকল্পনাগুলো বাধাগ্রস্ত হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অতীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়েছিল, আর সাম্প্রতিক ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ আমলে তা রাজনীতিকরণ হয়ে ‘কলঙ্কিত’ হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কানাডা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র বানাতে চায় না; বরং চায় একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ কর্মসংস্থান পাবে, শান্তিতে বাস করবে এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন এলাকাভিত্তিক ওয়ার্ড–ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে মানুষের কাছে বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরতে—“কৃষক, নারী, তরুণ–তরুণী—সবাইকে বলতে হবে আমরা তাদের জন্য কি করতে চাই। জনগণের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বক্তব্য দেন জিয়া উদ্দিন হায়দার, আবদুল মজিদ, আমিনুল হক, মীর শাহে আলম, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরসহ দলের শীর্ষ নেতারা।
পরে ছাত্রদল নেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন আলোচকরা।