
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের মনেয়াবাদ গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ কবরমুড়া (কবরস্থান) কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৫তম বার্ষিক ইছালে ছওয়াব মাহফিল। কবরস্থানের সার্বিক উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং কবরবাসীদের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত এই ধর্মীয় আয়োজনটি স্থানীয় মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) ফজর নামাজের পর কবরস্থান সংলগ্ন জানাযার মাঠ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন, যা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়ার দরবার শরীফের পীর সাহেব আলহাজ্ব শাহ মাওলানা নূর হোসাইন সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনেয়াবাদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি লায়ন মোঃ আমান উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন আমিরাবাদ সুফিয়া কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুহাদ্দিস মাওলানা জামাল উদ্দিন। এছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুহাম্মদ এমদাদুল হক নিজামী (খতিব) এবং মাওলানা খায়ের আহমদ। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষা, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং মৃতদের জন্য নিয়মিত দোয়া ও ইছালে ছওয়াবের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তারা জীবিতদের জন্য আখিরাতের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাহফিলটি পরিচালনায় সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন কবরমুড়া উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি আহমদ শফি ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ মিজবাহ উদ্দিন আরিফ। তাদের নেতৃত্বে কমিটির সদস্য ও উপদেষ্টারা সম্মিলিতভাবে অনুষ্ঠান সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করেন। কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দিদারুল আলম মেম্বার, কামাল উদ্দিন, তারেক, সাইফুল ইসলাম সিকদার, জোনায়েদ সাজ্জাদ, রিফাত সিকদার, কাসেম, তৈয়ব ও আবু মিস্ত্রি। এছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে নুরুল আলম সিকদার, দেলোয়ার হোসেন দেলু, এয়াকুব বাচ্চু, নুরুল আমিন ও মফিজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন।
আয়োজকরা জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। দিনব্যাপী কুরআন তিলাওয়াত, ওয়াজ-নসিহত ও দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, কবরমুড়া (কবরস্থান) উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এই ইছালে ছওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, যা স্থানীয় ধর্মীয় চর্চা ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।