
ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত চট্টগ্রাম কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ফেনী মডেল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। পরে বিষয়টি ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানান।
চার্জশিটে উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ জন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান এসআই আলমগীর হোসেন। এছাড়া মুরাদ হাসান বাবুসহ তিনজন ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত মাসুমের বড় ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমার ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিল না, সে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। যারা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগপন্থী নেতাকর্মীদের গুলিতে মাসুমের মাথায় গুলি লাগে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ৭ আগস্ট বিকেল ৫টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
নিহত মাহবুবুল হাসান মাসুম ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।