
২০২৫ সালের সবচেয়ে ব্যস্ত টি-টোয়েন্টি বর্ষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। সিলেট ও ঢাকার পর এবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে লিটন দাসের দল। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ।
এ বছর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলে ইতোমধ্যে রেকর্ড ২৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ—যা এক ক্যালেন্ডার বছরে দলের সর্বোচ্চ। বছরের শেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মিশন হওয়ায় আয়ারল্যান্ড সিরিজকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই মাঠে নামছে টাইগাররা। এই সিরিজ শেষে শুরু হবে বিপিএলের দ্বাদশ আসর, আর ফেব্রুয়ারিতে বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অষ্টম আসর।
তবে ভেন্যু হিসেবে চট্টগ্রাম সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে হতাশই করেছে। গত মাসেই একই মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে তিন ম্যাচ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজটি ছিল হতাশার। তাই আজকের ম্যাচে ব্যাটিং ইউনিটের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াই ছিল নতুন সিরিজে টাইগারদের বড় লক্ষ্য।
সমুদ্রীয় আবহাওয়া ও ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট বিবেচনায় আজকের ম্যাচে রান উৎসবের সম্ভাবনা ছিল শুরু থেকেই। ব্যাট হাতে সে ইঙ্গিতও দিয়েছে সফরকারী আয়ারল্যান্ড।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রান সংগ্রহ করে আয়ারল্যান্ড। শুরুর দিকে কিছুটা সতর্ক থাকলেও মধ্য ওভারে ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর দ্রুতই গতি পায়। ব্যারি ম্যাকার্থি, টেক্টর ভ্রাতৃদ্বয় ও স্টার্লিংদের ধারাবাহিক স্ট্রোক প্লেতে বাংলাদেশের বোলাররা খুব একটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ, মোস্তাফিজ ও তানজিম সাকিব কয়েকটি ভালো মুহূর্ত তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। ফলে জয়ের জন্য টাইগারদের সামনে টার্গেট দাঁড়িয়েছে ১৮২ রান।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
বাংলাদেশ: তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক-উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক, তানজিম হাসান সাকিব, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।
আয়ারল্যান্ড: পল স্টার্লিং (অধিনায়ক), টিম টেক্টর, হ্যারি টেক্টর, লোরকান টাকার (উইকেটকিপার), কার্টিস ক্যাম্ফার, জর্জ ডকরেল, গ্যারেথ ডেলানি, মার্ক অ্যাডায়ার, ব্যারি ম্যাকার্থি, ম্যাথিউ হামফ্রিস ও জশ লিটল।
এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য—১৮২ রানের চ্যালেঞ্জ জয় করে সিরিজে ভালো সূচনা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের হতাশা ভুলে নতুন করে শুরু করার মিশনে ব্যাটিং বিভাগ কীভাবে জবাব দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটে টাইগারদের দায়িত্ব হবে আক্রমণাত্মক কিন্তু ধীরস্থির মেজাজে শুরু থেকে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখা।