তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক চর্চা ও স্পোর্টস কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যাতে তরুণরা ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকে এবং মাদকের দিকে ঝুঁকে না পড়ে।
বুধবার (১৩ মে) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে করণীয়’ শীর্ষক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, “খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চায় তরুণরা ব্যস্ত থাকলে তাদের মধ্যে মাদকের নেশা ভর করতে পারবে না। সমাজকে রক্ষা করতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এটি শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার তরুণ-যুবকদের চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি বলেই অনেকেই মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”
ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তোমরাই আধুনিক, সুখী, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কারিগর। মেধা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার সমন্বয়ে দেশকে বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দিনব্যাপী সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। এছাড়া অসহায় ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়।
হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবী পরিবারের নারীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিনও বিতরণ করা হয়।
এদিন উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর চূড়ান্ত পর্বের বিজয়ীদের মাঝেও পুরস্কার তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।