শিরোনাম
আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের নাম ‘জাতিসংঘ সড়ক’ করার প্রস্তাব অসুস্থ আবু তাহেরের বাবাকে দেখতে বাসায় গেলেন আকতার নবী চৌধুরী বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্যমন্ত্রী, ইজতেমায় ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা নাচ, অভিনয় ও মডেলিংয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান অপূর্ব এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি: গর্ভাবস্থার একটি নীরব জরুরি অবস্থা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে দেখতে চান ফ্লাভিয়া ইসলাম সনাতনী পরিবারের পাশে এজাহার মিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিফলন: আবু সুফিয়ান এমপি লাঙ্গলকোট-লাকসাম সেকশনে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত, বরখাস্ত উপসহকারী প্রকৌশলী সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে রাঙামাটিতে নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশনের প্রচারণা
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন

আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের নাম ‘জাতিসংঘ সড়ক’ করার প্রস্তাব

বার্তা টুডে ডেস্ক / ১৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের নাম পরিবর্তন করে ‘জাতিসংঘ সড়ক’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন বিশিষ্ট কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদ মুহাম্মাদ নুরুল ইসলাম। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি জাতিসংঘের নামে নামকরণ করা হলে চট্টগ্রামে জাতিসংঘের তথ্য অফিস পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আরও গতিশীল হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি, মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের ব্যাপারীপাড়া মোড়ে আয়োজিত এক প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন মঞ্চ (সিডিপি) ও নিপ্পন একাডেমির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সরোয়ার আমিন বাবু।

জাপানের সাবেক কনসাল জেনারেল মুহাম্মাদ নুরুল ইসলাম বলেন, একসময় চট্টগ্রামে জাতিসংঘের তথ্য অফিস ছিল। বিভিন্ন কারণে বর্তমানে সেই অফিস না থাকলেও বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনায় এ ধরনের একটি অফিস পুনঃপ্রতিষ্ঠা এখন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। জাতিসংঘের তথ্য অফিস চালু হলে শিক্ষার্থী ও তরুণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির কার্যক্রমের সরাসরি সংযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সম্পর্কে তরুণদের জানার সুযোগ বাড়বে।

তিনি বলেন, সাধারণত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন সড়কের নামকরণ করা হয়। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম আন্তর্জাতিক সংস্থার নামে রাখা হলে তা দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি স্মরণীয় করে রাখতে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের নাম ‘জাতিসংঘ সড়ক’ রাখা যেতে পারে।

মুহাম্মাদ নুরুল ইসলাম আরও বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশি খলিলুর রহমানের দায়িত্ব পালন দেশের জন্য সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। এ ধরনের অর্জন আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়াতে সহায়তা করে। তাঁর মতে, জাতিসংঘের নামে সড়কের নামকরণ করা হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সড়কটি আগ্রাবাদের বাণিজ্যিক এলাকাকে বড়পোল, পোর্ট কানেকটিং রোড ও হালিশহরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। নগরের যোগাযোগব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য সড়কটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায় সড়কটির উন্নয়ন করা হয়। ২০১৬ সালে জাপান সরকার দেশটির দূতাবাসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ৮২ কোটি টাকা অনুদান দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ওই অর্থে সুপরিকল্পিত নকশা অনুযায়ী সড়কটির উন্নয়ন করা হয়।

তিনি জানান, সে সময় জাপানের রাষ্ট্রদূত আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের নাম জাতিসংঘের নামে রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে সড়কটির নামকরণের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী নিলুফার বেগম, এওটিএস কর্মকর্তা রহিম উল্লাহ, হাসান মুরাদ, মাসুম আকতার, খোরশেদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জাতিসংঘ দিবস উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে সমাবেশস্থলে একটি নিমগাছের চারাও রোপণ করা হয়।

আয়োজকদের মতে, জাতিসংঘ দিবসের এ আয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিশ্বশান্তি এবং জাতিসংঘের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের নাম ‘জাতিসংঘ সড়ক’ রাখার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির নামকে যুক্ত করবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ