শিরোনাম
দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীর, চলবে ত্রাণ কার্যক্রম সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি হাজারো পরিবার পুকুরিয়ায় পানিবন্দি পরিবারের পাশে জামায়াত, বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে প্রধানমন্ত্রী, ত্রাণে কেউ বঞ্চিত হবে না: মীর হেলাল সাতকানিয়ায় বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত, বান্দরবান সড়কে যান চলাচল বন্ধ টানা বর্ষণে মাতারবাড়িতে জলাবদ্ধতা: এমপির নির্দেশে সুইচগেট খুলে জরুরি পানি নিষ্কাশন রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতিতে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে সভাপতি-সম্পাদকের ভূমিকা আইএমও’র সর্বোচ্চ বীরত্ব সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ পানির ভয়াবহতায় নীরবে কাঁদছে পুকুরিয়ার পানিবন্দি ৩ শতাধিক পরিবার নাসিব নির্বাচনকে ঘিরে সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ দাবি—আগের নিয়মে ভোট, আগের মতো ফি
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন

রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতিতে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে সভাপতি-সম্পাদকের ভূমিকা

বার্তা টুডে ডেস্ক / ২৩৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি (সীমিত)-এর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা নিবন্ধিত কার্যালয়ের পরিবর্তে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে রেস্ট হাউজে আহ্বানকে কেন্দ্র করে সমবায় আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সমিতির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান (সিওপিএস/পশ্চিম) ও সম্পাদক (সচিব) মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমিতির একাধিক শেয়ারহোল্ডার। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ে জেলা সমবায় কার্যালয়ের কার্যকর তদারকি না থাকায় বছরের পর বছর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চললেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে “আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি” নামে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি পরবর্তীতে “পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি” এবং স্বাধীনতার পর “বাংলাদেশ রেলওয়ে সমবায় ঋণদান সমিতি (সীমিত)” নামে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চট্টগ্রামের রেলভবনে অবস্থিত সমবায় অধিদপ্তরে নিবন্ধিত এ প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন, যারা বাংলাদেশ রেলওয়ের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী। সমিতির গঠনতন্ত্র, সমবায় আইন-২০০১ (সংশোধিত-২০১৩) এবং সমবায় বিধিমালা-২০০৪ (সংশোধিত-২০২০) অনুযায়ী তিন বছর অন্তর ১২ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হয়, যার মধ্যে আটজন নির্বাচিত এবং চারজন মহাপরিচালক কর্তৃক মনোনীত হন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সমবায় বিধিমালার ৪১ নম্বর বিধিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভা নিবন্ধিত কার্যালয়ে আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা উপেক্ষা করে আগামী ১১ জুলাই ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে রেস্ট হাউজে সভা আহ্বান করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, নিবন্ধিত কার্যালয়ের বাইরে গোপনে সভা আয়োজনের মাধ্যমে বিতর্কিত কিছু এজেন্ডা অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। একই ধরনের অভিযোগ এর আগেও ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর সরকারি ছুটির দিনে নিবন্ধিত কার্যালয়ের বাইরে সভা করে বিধিবহির্ভূতভাবে একজন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।

সমিতির সম্পাদক মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালে সমিতির একটি হিসাব থেকে প্রায় এক কোটি টাকা উত্তোলন করে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল লতিফপুর এলাকায় বেনামে জমি কেনা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই জমির দখল পাওয়া যায়নি। এতে সমিতির উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

এছাড়া ২০২৫ সালের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী তফসিল পরিবর্তনের অভিযোগে জেলা সমবায় কার্যালয়ে একটি সালিশি (আরবিট্রেশন) মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, মামলার রায়ে নির্বাচন বাতিল হলে সমিতির প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সালে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছাড়াই মো. সাখাওয়াত হোসেনকে বিধিবহির্ভূতভাবে সম্পাদক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আগের কমিটিকে বহাল রাখতে আদালতে রিট করা হয়। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের নির্দেশে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া হলেও বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে তিনি সমিতির কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সমিতির সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ পার্সোনেল অফিসার (সিপিও) তরুণ কান্তি বালা বলেন, “সমিতির সব সভা নিবন্ধিত কার্যালয়েই করতে হয়—এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। একজন সাংবাদিক বিষয়টি জানানোর পর আমি বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে কথা বলুন।”

অভিযোগের বিষয়ে সমিতির সম্পাদক (সচিব) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। তাই এবার সভাটি সমিতির কার্যালয়ের পরিবর্তে ঢাকায় আয়োজন করা হয়েছে। আমরা সবসময় এভাবে সভা করি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাতায়াতসহ কিছু বাস্তবিক সমস্যার কারণে ঢাকায় সভার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সমিতির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এই প্রতিবেদকের হাতে আসা লিখিত অভিযোগপত্রে সমবায় আইন, বিধিমালা ও সমিতির গঠনতন্ত্রের একাধিক ধারা উল্লেখ করে নিবন্ধিত কার্যালয়ের বাইরে সভা আয়োজনকে অবৈধ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক অনিয়ম, নির্বাচনসংক্রান্ত জটিলতা, বিতর্কিত নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ