শিরোনাম
এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি: গর্ভাবস্থার একটি নীরব জরুরি অবস্থা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে দেখতে চান ফ্লাভিয়া ইসলাম সনাতনী পরিবারের পাশে এজাহার মিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিফলন: আবু সুফিয়ান এমপি লাঙ্গলকোট-লাকসাম সেকশনে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত, বরখাস্ত উপসহকারী প্রকৌশলী সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে রাঙামাটিতে নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশনের প্রচারণা রাঙামাটিতে যানবাহন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ পেলেন ১৭ প্রশিক্ষণার্থী শিশুর সংকটাপন্ন অবস্থায় PICU কেন গুরুত্বপূর্ণ: দ্রুত সিদ্ধান্ত, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত চিকিৎসা ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নজির শারদীয় দুর্গোৎসব: আসলাম চৌধুরী ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন

টানা বর্ষণে মাতারবাড়িতে জলাবদ্ধতা: এমপির নির্দেশে সুইচগেট খুলে জরুরি পানি নিষ্কাশন

স্থায়ী সমাধানের দাবি স্থানীয়দের / ১৮৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের কক্সবাজার

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

প্রশাসনের উদ্যোগে রাঙ্গাখালী, ছোয়াখালী, ছুরোবর ঘোনা এবং উত্তর পাশের ব্যাঙ ঘোনা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সুইচগেট খুলে দেওয়া হয়। এতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত সাগর ও সংযুক্ত জলপথে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন এলাকার পানি কমতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণের কারণে মাতারবাড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল, গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়ির আঙিনায় পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে সুইচগেট খুলে দেওয়ায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়েছে এবং জলাবদ্ধতার তীব্রতা অনেকটাই কমেছে। তারা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই মাতারবাড়ির বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি ঘটে। খাল, নালা ও প্রাকৃতিক পানি চলাচলের পথ ভরাট হয়ে যাওয়া, সংকুচিত হওয়া এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অল্প সময়ের ভারী বর্ষণেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু জরুরি পানি নিষ্কাশন নয়, খাল পুনঃখনন, পানি প্রবাহের পথ সংরক্ষণ, সুইচগেটের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, তাৎক্ষণিক উদ্যোগের পাশাপাশি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাতারবাড়ির জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি স্থায়ী ও বিজ্ঞানভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করবে। এতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ, কৃষিক্ষতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিঘ্ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ