
মডেলিং ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ পেরিয়ে অভিনয়ের জগতে ধীরে কিন্তু দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন মিস এভারগ্রীন বাংলাদেশ ২০২৩-এর বিজয়ী হ্যাপি আক্তার মমতাজ। শোবিজ অঙ্গনে যিনি হ্যাপি মম নামেই বেশি পরিচিত, তিনি নিজের কাজের প্রতি সচেতনতা, ব্যক্তিত্বের সরলতা এবং পরিমিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই দর্শক-শুভানুধ্যায়ীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
গত ১১ ডিসেম্বর ছিল এই উদীয়মান অভিনেত্রীর জন্মদিন। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও এবারের জন্মদিন তিনি উদযাপন করেছেন একান্তভাবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। কোনো জাঁকজমক আয়োজন নয়, বরং আপনজনদের ভালোবাসা ও সময়ের মধ্যেই জন্মদিনের আনন্দ খুঁজে নিয়েছেন হ্যাপি মম।

জন্মদিন উপলক্ষে তার সাজেও ছিল ব্যতিক্রমী ভাবনা। এদিন তিনি গায়ে হলুদের থিমে নিজেকে সাজিয়েছিলেন, যা উপস্থিত সবার নজর কাড়ে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেক কেটে জন্মদিনের আনন্দ ভাগাভাগি করেন তিনি। জন্মদিনের সাজ ও অনুভূতি নিয়ে জানতে চাইলে হাসিমুখে হ্যাপি মম বলেন, “বউ সাজতে ভালো লাগে।” তার এই সহজ, সরল ও প্রাণবন্ত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক সাড়া ফেলে এবং ভক্তদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে।
অভিনয়ের জগতে হ্যাপি মমের যাত্রা শুরু হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি টেলিভিশন নাটকে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। তার অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের সঙ্গে ‘সেলিব্রিটি জ্যাকি’ নাটকটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। এতে তার সাবলীল অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়া জাহিদ হাসানের সঙ্গে অভিনীত ‘প্রেম দরদী ভাই আমার’ নাটকটিও দর্শক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
নাটকের পাশাপাশি তিনি কাজ করেছেন মিউজিক ভিডিও ‘প্রেমের ঝটকা’-তে, যা তরুণ দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে তার অভিনীত নতুন দুটি নাটক—‘ভেজাইল্যা বিয়ে’ ও ‘বকুলের প্রেমে’—প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। এ নাটকগুলো নিয়েও দর্শকদের প্রত্যাশা রয়েছে বেশ।
তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে হ্যাপি মমের সিদ্ধান্তে রয়েছে সচেতনতা ও আত্মসংযম। দ্রুত জনপ্রিয়তার চেয়ে নিজের প্রস্তুতি ও পরিপক্বতাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। সম্প্রতি বড় পর্দার দুটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও সেগুলো তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে হ্যাপি মম বলেন, “সিনেমা মানে বড় ক্যানভাস। এখনো নিজেকে সিনেমার জন্য প্রস্তুত মনে করি না।” তার এই বক্তব্যই স্পষ্ট করে দেয়, তিনি নিজের সীমাবদ্ধতা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে সচেতন।
পরিবার, কাজ ও নিজের প্রস্তুতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার এই মানসিকতাই হ্যাপি মমকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলছে। অভিনয়ে তার এই সচেতন ও দায়িত্বশীল পথচলা ভবিষ্যতে তাকে আরও দৃঢ়, পরিণত ও গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের।