
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বাস্তবভিত্তিক করণীয় ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করা হয়।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর রেলভবনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে (কক্ষ নং–৮১৫) অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। এতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূমিকা ও দায়িত্ব তুলে ধরা হয়। আলোচনায় রেলওয়ের সকল স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ধূমপান ও তামাকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা ও তা কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি রেলওয়ের ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যাটারিং সেবায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের মানদণ্ড নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিশেষভাবে খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, মুক্ত চিনি ও ট্র্যান্সফ্যাটের ব্যবহার সীমিতকরণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টায় শারীরিক কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়গুলো কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এছাড়া কর্মশালায় মানসিক সুস্থতা নিশ্চিতকরণ, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ও আঘাত প্রতিরোধ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অ্যালকোহল ও মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এসব বিষয়ে সময়াবদ্ধ খসড়া কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে। সেই ঘোষণাপত্রের আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের অংশ হিসেবেই রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে প্রণীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং একটি স্বাস্থ্যবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।