শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন

চন্দনাইশে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের বিক্ষোভ

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৮৮

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে কাঞ্চননগর মাস্টার মনছফ আলী জাহানারা বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখর দাসের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণ ও শিক্ষককে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করার অভিযোগে শিক্ষার্থীরা দিনভর আন্দোলন করেছে। রোববার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন টানা চলে বিকেল পর্যন্ত।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক শেখর দাস ক্লাসে শিক্ষার্থীরা পড়া না বুঝলে তাদেরকে গরু-ছাগলের সাথে তুলনা করেন। এমনকি প্রতিবাদ করলে ‘ডাস্টবিনের মেয়ে’, ‘বেজন্মা’সহ নানা অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। সম্প্রতি ধর্ম শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষককে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করার ঘটনাও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অভিভাবক লাঞ্ছনার অভিযোগ

১৭ আগস্ট বিদ্যালয়ে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আলোচনার এক পর্যায়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফা আক্তারের মাকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি মুহূর্তেই স্কুলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা সুলতানা প্রীমা, ওয়াকিয়া সুলতানা ও মাইসা সিরাজ বলেন, “একজন শিক্ষক কিভাবে শিক্ষার্থীদের গরু-ছাগল বা ডাস্টবিনের মেয়ে বলে গালাগাল করতে পারেন! অভিভাবকদেরও তিনি অসম্মান করেছেন। আমরা এমন প্রধান শিক্ষক চাই না।”

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বে বাধা

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে গেলে বিজয় টিভির প্রতিনিধি জাবের বিন রহমান আরজু ও দৈনিক জনবানীর প্রতিনিধি আমিনুল্লাহ টিপুকে প্রধান শিক্ষক ও তার অনুসারীরা শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নিতে বাঁধা দেয়। এতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে।

অভিভাবকদের ক্ষোভ

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফা আক্তারের অভিভাবক আলী আকবর শিফু বলেন, “আমার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের গালাগালের কথা বলে আসছে। তিনি শিক্ষার্থীদের ‘বেজন্মা’, ‘ডাস্টবিনের মেয়ে’ ইত্যাদি বলে অপমান করেন। অভিভাবক হিসেবে আমরা চরম বিব্রত।”

প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শেখর দাস জানান, “শিক্ষক চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত কমিটির। শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ সত্য নয়। সাংবাদিকদের সাথে যেটা হয়েছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত।”

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর