
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চর পাথরঘাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শফি আলম (৪৫) জানালেন, “আজ থেকে এক আগেও আগে আমার জীবন ছিল একেবারে সঠিক পথে। নিজের ইচ্ছায়, পরিশ্রমে, কিছু দিন আগেও আমি ছিলাম সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু আজ সেই আয়ের একমাত্র সম্বল সিএনজি গাড়িটা আগুনে পুড়ে গেছে—এখন আমি কি করে সংসার চালাবো?”
শফি আলম, যিনি প্রতিদিন সিএনজি চালিয়ে পরিবারে রোজগার করতেন, রবিবার (১৭ আগস্ট) একটি দুর্ঘটনায় সব কিছু হারিয়েছেন। আনোয়ারার সদর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চলন্ত সিএনজিতে হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডারে লিকেজ থেকে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে, তাঁর জীবনের একমাত্র সম্বল—গাড়ি, পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ আসিফুল হক বলেন, “গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুন ধরে গিয়েছিল, আমরা সবাই ভয়ে চিৎকার করে সিএনজি থেকে নামলাম। খুব দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু তখন অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।”
শফি আলম সিএনজি চালিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে সংসারের খরচ চালাতেন। তাঁর সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে পরিবারে প্রতিটি খরচের ভার ওই গাড়ির ভাড়া থেকেই আসত। “এই গাড়ি না থাকলে, আমার পরিবারের পক্ষে কিছুই সম্ভব নয়,” শফি বলেন, “এখন আমার জীবিকার একমাত্র রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুন ধরেছে, আর আমি পুড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু গাড়ি হারাইনি, আমার জীবনের বেঁচে থাকার একমাত্র উৎস হারিয়েছি। ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী—সবাই এখন চিন্তায়। কি হবে এখন আমাদের?”
ঘটনার পর শফি আলমের জন্য জীবনের কিছুটা আশা বেঁচে আছে—এটা হল মানবিক সহায়তা। তাঁর আশপাশের মানুষেরা জানাচ্ছেন, তাঁকে সাহায্য করার জন্য সমাজের সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনও তাঁকে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছে, তবে তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় সহায়তা আসবে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান শেখ জানান, “সিএনজির গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। দ্রুত আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। তবে, আমরা ৩ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।”