শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

জাতিসংঘে ইউনূস: মানবিকতা, ন্যায় ও স্থায়িত্বভিত্তিক নতুন অর্থনীতির ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা টুডে
  • মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২২৯

সামাজিক ব্যবসা, যুব ও প্রযুক্তি নিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্ব শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

২৩ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিকেলে দেওয়া মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, “ যাই হোক না কেন, আমার লক্ষ্য অপরিবর্তিত— এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা যেখানে সুযোগ, মর্যাদা ও স্থায়িত্ব সবার কাছে পৌঁছাবে।”

প্রধান উপদেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য ও বৈশ্বিক সংঘাতকে মানবতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সংকটগুলো আলাদা নয়, বরং পরস্পর-সংযুক্ত। তাই এর সমাধানও হতে হবে সমন্বিতভাবে। এজন্য প্রয়োজন নবায়িত বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও গভীর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটি এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইসঙ্গে ১.৩ মিলিয়ন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া, জলবায়ু ধাক্কা মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব সামলাচ্ছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস না করে বরং বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ‘লাভনির্ভর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ভেতরে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়। তাই তিনি নতুন অর্থনৈতিক ধারা হিসেবে সামাজিক ব্যবসাকে সামনে আনার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “সামাজিক ব্যবসা কেবল একটি ধারণা নয়, বরং এটি দেখিয়েছে কীভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে শক্তি খাতেও টেকসই সমাধান তৈরি সম্ভব।”

যুব সমাজকে পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তরুণদের কল্পনা ও সৃজনশীলতা সামাজিক ব্যবসা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও জলবায়ু সঙ্কট সমাধানে কাজে লাগাতে হবে। তিনি প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক সম্ভাবনা উল্লেখ করে বলেন, এআই, ব্লকচেইন ও আইওটি মানবকল্যাণে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে নৈতিক উদ্ভাবন প্রয়োজন।

জিরো নেট কার্বন নিঃসরণ, জিরো দারিদ্র্য ও জিরো বেকারত্ব’—এই ‘তিন শূন্য’ ধারণা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণরা ৩-শূন্য ক্লাব গড়ে তুলছে। এগুলো ভবিষ্যতে গ্রাম, শহর হয়ে একদিন ‘তিন শূন্য বিশ্বে’ রূপ নেবে।

অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করে বলেন, “সামাজিক ব্যবসার শক্তি, তারুণ্যের উদ্যম ও প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগালে আমরা সবচেয়ে জটিল বৈশ্বিক সংকটও মোকাবিলা করতে পারব। আসুন আমরা ন্যায়, স্থায়িত্ব ও আশার ভিত্তিতে একটি নতুন বিশ্বের স্থপতি হই।”

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর