রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন

ফ্যাসিবাদের দোসর সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত তথ্য উপদেষ্টা: প্রেস ক্লাব

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৬৪

মাননীয় তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অন্তবর্তীকালীন কমিটি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) তিনি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবকে ‘দখল করা’ সংক্রান্ত যে মন্তব্য করেছেন, সেটিকে দুঃখজনক ও বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছে প্রেস ক্লাব নেতৃত্ব।

প্রেস ক্লাব নেতাদের দাবি, ফ্যাসিবাদপন্থী ও দলবাজ সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত হয়ে তথ্য উপদেষ্টা এমন বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃতপক্ষে গত বছরের (২০২৪) ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা প্রেস ক্লাবকে ভারতীয় দালাল ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাত থেকে মুক্ত করে। পরে তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি অন্তবর্তীকালীন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অন্তবর্তীকালীন নেতারা বলেন, ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেস ক্লাব মুক্ত হয়েছিল। অথচ তথ্য উপদেষ্টা সেটিকে ‘দখল’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলনের গুরুত্ব ও ছাত্রদের আত্মত্যাগকে খাটো করেছেন।

তারা অভিযোগ করেন, পুরোনো কমিটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হলেও সংশ্লিষ্টরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। পরে অন্তবর্তীকালীন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকৃত সাংবাদিকদের সদস্যপদ প্রদান, বিতর্কিত সাংবাদিকদের বহিষ্কার, বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন করে ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হল’ করা, এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

প্রেস ক্লাব নেতাদের দাবি, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তকরণ, সংবিধান সংস্কার, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমোদনের আবেদন এবং ভোটার তালিকা প্রণয়নের মতো প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অধিকাংশ সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতারা ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ সাংবাদিকদের অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

তথ্য উপদেষ্টার দেওয়া ‘প্রেস ক্লাবে জুয়া চলছে’ মন্তব্যকেও আপত্তিকর বলে জানায় অন্তবর্তীকালীন কমিটি। তাদের বক্তব্য, ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবেও পূর্ববর্তী কমিটির সময় থেকেই অনুমোদিত হাউজির জন্য হল ভাড়া দিয়ে আসা হচ্ছে। এর ভাড়া থেকে ক্লাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

প্রেস ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে ভারতীয় তাঁবেদারী ও আওয়ামী রাজনীতির ঘাঁটিতে পরিণত করেছিল। জুলাই আন্দোলনের সময় অনেক সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের পুলিশে সোপর্দ ও নারী সাংবাদিকদের অপদস্ত করেছিল বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এখনো কাউকে আইনের আওতায় আনা হয়নি, যা সরকারের ব্যর্থতার পরিচায়ক বলে দাবি করেছে প্রেস ক্লাব নেতৃত্ব।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর