শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন

যুদ্ধবিরতির পর গাজায় প্রথম ত্রাণ পৌঁছালেও ক্ষুধা-অনাহারে জর্জরিত মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / বার্তা টুডে
  • মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২০০

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুধা ও অনাহারে জর্জরিত গাজাবাসীর কাছে অবশেষে প্রথম ত্রাণবাহী ট্রাক পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গতকাল (সোমবার) গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে পৌঁছায় এই ত্রাণ। তবে সামান্য এই ত্রাণ বিতরণের সময় সেখানে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা; ক্ষুধার্ত বাসিন্দাদের মধ্যে খাবারের জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ ত্রাণ পৌঁছেছে তা খুবই নগণ্য। তীব্র খাদ্যসংকটে থাকা গাজাবাসীর জন্য এটি প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। তবুও আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় পৌঁছাবে।

এদিকে, গাজার মানুষ এখনো উদ্বেগ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইসরায়েলের স্থল অভিযানে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা শহরে ফিরে আসছেন।

ফিরে আসা বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তারা জানেন এখানে কোনো মানবিক সহায়তা নেই, তবুও নিজেদের ভিটেমাটিতে ও পরিচিত সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকতে চান। এক বাসিন্দা বলেন, “সবকিছুর অভাব, তবুও নিজের মাটিতেই টিকে থাকার চেষ্টা করছি।”

তবে এখনো মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় অবস্থান করছেন বহু মানুষ। তাদের অনেকে জানিয়েছেন, যাওয়ার মতো কোনো নিরাপদ স্থান নেই, আশ্রয়ের বিকল্পও নেই। অন্তত এখানেই তারা কিছু খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও তারা এখনো আশঙ্কায় আছেন—এই চুক্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তাদের মতে, ইসরায়েল হয়তো জিম্মি মুক্তির শর্ত পূর্ণ হওয়ার পর যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যেতে পারে।

সবশেষে, এক ধরনের ভয় ও সন্দেহ এখনো গাজার মানুষের মনে বিরাজ করছে। তবে দীর্ঘ ক্ষুধা-অনাহারের পর কিছু সহায়তা পৌঁছানোয় তাদের মনে সামান্য স্বস্তির আলো জেগেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর