সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য ঘোষণা করলেন তারেক রহমান

বার্তা টুডে ডেস্ক
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮৩

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি এ লক্ষ্য ঘোষণা করেন। তারেক রহমান বলেন, এই অর্থনৈতিক কাঠামো এমন হবে যেখানে প্রতিটি নাগরিক—বিশেষ করে নারী—গর্বের সঙ্গে দেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। “কোনো নারীকে তার পরিবার ও ভবিষ্যতের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে না”—এই নিশ্চয়তা তৈরিই বিএনপির অঙ্গীকার, যোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে পুরুষদের ৮০ শতাংশ কর্মজীবী হলেও নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ৪৩ শতাংশ। এই বৈষম্য দেশের অগ্রগতিতে বড় বাধা।”

তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যেই বিএনপি শিশু পরিচর্যা (চাইল্ড কেয়ার) ব্যবস্থাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল কৌশলের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

তারেক রহমান জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে সারা দেশে ধাপে ধাপে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে—

সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার,

সরকারি অফিসগুলোতে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র,

বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার সুবিধা,

শিশু পরিচর্যা সুবিধা দেওয়া নিয়োগকর্তাদের কর ছাড় ও সিএসআর ক্রেডিট,

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মান অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভার সার্টিফিকেশন।

তারেক রহমান বলেন, “শিশু পরিচর্যা কোনো দয়া বা সহানুভূতির বিষয় নয়; এটি অর্থনীতির অপরিহার্য অবকাঠামো। কর্মজীবী মায়েদের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা ন্যায়সংগতও বটে, পাশাপাশি এটি একটি দূরদর্শী বিনিয়োগ।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “শিশু পরিচর্যার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে জিডিপিতে ১ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি যোগ হতে পারে।”

তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)–এর গবেষণা উদ্ধৃত করে বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে, সেখানে কর্মী ধরে রাখার হার বেশি, অনুপস্থিতি কম এবং এক বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের খরচ ফিরে আসে।”

তারেক রহমান বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন শুধু সামাজিক ন্যায় নয়, এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনৈতিক বিনিয়োগ। আমরা এমন সব পশ্চাৎমুখী ধারণা প্রত্যাখ্যান করি, যা নারীর সম্ভাবনাকে সীমিত করে রাখে। নারীকে যদি সমান মজুরি, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও শিশু পরিচর্যার নিশ্চয়তা দেওয়া যায়—তবে সেটিই হবে টেকসই অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপির এই পরিকল্পনা কেবল অর্থনৈতিক নয়—এটি সামাজিক ন্যায়েরও অংশ। কারণ, একটি জাতির অর্থনৈতিক সাফল্য তখনই টেকসই হয়, যখন অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীও সমানভাবে তাতে অংশ নিতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো খবর