
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা তামাকুমন্ডি লেইন। এই এলাকার শত শত ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতি। তবে আসন্ন নির্বাচন–২০২৫ ঘিরে সমিতির অভ্যন্তরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সচেতন ব্যবসায়ী ও ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও প্রশ্ন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সমিতির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে এবং কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সিন্ডিকেট ধারাবাহিকভাবে সুবিধা পাচ্ছে। এতে করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতি দলাদলি, গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। আজ যে অনিয়ম বা পক্ষপাতমূলক চর্চা ছোট আকারে দেখা যাচ্ছে, আগামী দিনে অন্য কোনো দল শক্তিশালী হয়ে উঠলে সেটিই প্রতিশোধমূলক ও দ্বিগুণ আকার ধারণ করতে পারে—যার পরিণতিতে সমিতির স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দূরদর্শিতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ মনে করছেন, যোগ্য নেতৃত্ব কেবল বর্তমান সময় নয়, আগামী ১০–২০ বছরের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দূরদর্শী নেতৃত্বের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এক প্রবীণ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নেতৃত্ব শকুনের মতো দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হওয়া জরুরি—যারা দূর থেকেই ভবিষ্যৎ বিপদ আঁচ করতে পারে।
এই অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের এই বক্তব্য বা উদ্বেগের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। বরং যে সমিতি তাদের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা, সামাজিক সম্মান এবং শহরের নানা স্থানে মর্যাদার সঙ্গে বসার সুযোগ করে দিয়েছে, সেই সমিতির ঐতিহ্য ও সম্মান রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা বলেন, এই প্রতিবেদন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছোট করা বা ব্যক্তিগত ইমেজ ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং সময় থাকতে সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে সতর্ক করা।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসছে—নির্বাচনী প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য, সাধারণ ব্যবসায়ীদের মতামত আদৌ প্রতিফলিত হচ্ছে কি না, এবং সিন্ডিকেট বা একক আধিপত্য ঠেকাতে সমিতির ভেতরে কার্যকর কোনো উদ্যোগ আছে কি না। এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর না মিললে ভবিষ্যতে সমিতির ঐক্য টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন ভোটাররা।
সব মিলিয়ে, তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়—এটি শত শত ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর সম্মিলিত ঐতিহ্য। সময় থাকতে দায়িত্বশীল ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে ব্যর্থ হলে এই ঐক্য ভেঙে পড়ার দায় এড়ানো যাবে না। তাই আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সচেতন ব্যবসায়ী ও ভোটারদের গঠনমূলক আলোচনা, সমালোচনা এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।