
চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (CWCCI)-এর প্রেসিডেন্ট আবিদা সুলতানা বলেন, “নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ও দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করাই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি।” তিনি এই মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম অফিসের উদ্যোগে ২০ ডিসেম্বর রেডিসন ব্লু হোটেলের মোহনা হলে আয়োজিত “চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভায়।

আবিদা সুলতানা সভায় চট্টগ্রামের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিফাইন্যান্স স্কিম দ্রুত ও সহজভাবে বাস্তবায়ন করা, প্রতিটি ব্যাংকে ডেডিকেটেড উইমেন/এসএমই ডেস্ক সক্রিয়ভাবে মনিটর করা, সম্ভাবনাময় খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা ও সফট লোন প্রদান, আর্থিক সাক্ষরতা ও ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল নারী উদ্যোগে বিশেষ তহবিল গঠনের গুরুত্ব অপরিসীম।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. মকবুল হোসেন। প্রধান অতিথি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র, যেখানে সমুদ্রবন্দর, ইপিজেড, ভারী শিল্প ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ অবস্থিত। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক কানেক্টিভিটি জোরদার করা, উৎপাদনমুখী খাতে স্বল্পমূল্যের ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসএমই ও কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ানো, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলোর সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি।” তিনি রিফাইন্যান্স স্কিমের অব্যবহৃত অর্থ দ্রুত বিতরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. খসরু পারভেজ। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন CWCCI-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লুৎমিলা ফরিদসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অতিথি ও প্রতিনিধিগণ।
সভায় আলোচনার মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন সহজতর করা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্তমূলক প্রস্তাবনা উঠে আসে।