
চট্টগ্রামের মহেশখালী উপজেলার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে কর অঞ্চল-৩, চট্টগ্রাম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন এ কর অঞ্চলটির অন্যতম শীর্ষ করদাতা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীন বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি দেশের সমুদ্রবন্দর খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন কর অঞ্চল-৩, চট্টগ্রাম এর সম্মানিত কর কমিশনার জনাব মো: মঞ্জুর আলম। এসময় নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান Penta-Ocean/TOA Joint Venture–এর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন প্রজেক্ট ম্যানেজার Mr. Keisaku Takae, এডমিন ম্যানেজার Mr. Haruyuki Sako এবং এসিস্ট্যান্ট কন্ট্রাক্ট ম্যানেজার জনাব জোবায়ের বিন হামিদ।
পরিদর্শন শেষে একটি তথ্যবহুল পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, নির্মাণ কার্যক্রম, বিনিয়োগ কাঠামো ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন প্রজেক্ট ম্যানেজার Mr. Keisaku Takae।
এসময় উৎসে কর কর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সম্ভাব্য প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর প্রযোজ্য উৎসে কর কর্তন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, যা জাতীয় রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কর কমিশনার মহোদয় Matarbari Port Development Project এবং Matarbari Deep Sea Terminal প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি তিনি পার্শ্ববর্তী মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA)–এর সম্মানিত নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব:) মো: নজরুল ইসলাম–এর সাথে কর কমিশনারের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এই পরিদর্শন কার্যক্রমে আরও অংশগ্রহণ করেন কর অঞ্চল-৩, চট্টগ্রাম এর সম্মানিত অতিরিক্ত কর কমিশনার জনাব মো: শহিদুল ইসলাম, উপকর কমিশনার জনাব মো: নাদিম হোসেন এবং কর পরিদর্শক জনাব মো: এমরান বিন ইউসুফ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, সমুদ্রবন্দর ব্যবস্থাপনা এবং রাজস্ব আহরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কর প্রশাসনের নিবিড় তদারকি ও অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।