শিরোনাম
চিকিৎসা শুধু ব্যবসা নয়, মানবসেবাও — প্রমাণ করলেন এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটালের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী অর্থের বিনিময়ে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপিতে গণ পদত্যাগ চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া কলেজ গেইট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত ঈদে নিত্যপণ্যে মূল্যছাড়ে ব্যতিক্রমী আহ্বান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের চট্টগ্রামকে পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরে বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান জরুরি: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন “নিরাপদ বন্দর, সমৃদ্ধ দেশ” প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নিরাপত্তা সপ্তাহ সমাপ্ত সাতকানিয়ায় পুকুরের ঘাট নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে বাধা দেওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি পৃথক দুই অভিযানে অস্ত্রসহ ১১ ডাকাত গ্রেফতার, উদ্ধার বন্দুক-কার্তুজ ও দেশীয় অস্ত্র পার্বত্য চট্টগ্রামে খাদ্য নিরাপত্তা ও দক্ষতা উন্নয়নে WFP’র সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সাতকানিয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও একজনকে শ্লীলতাহানি, ৪ জন গ্রেফতার
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন

রেলে ফজলে করিম চৌধুরীর অঘোষিত ক্যাশিয়ার পংকজের দাপট

নিজস্ব প্রতিবেদক :: / ১৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক এসআরবি রেলওয়ে স্টেশনটি এখন কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে দখলদারদের কালো থাবায়। ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেশনটি একসময় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি হওয়া পাথর, সার ও ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। অথচ যেখানে ট্রেনের শব্দ আর যাত্রীদের কোলাহল থাকার কথা, সেখানে এখন দিনরাত চলে ট্রাকের গর্জন আর অবৈধ ব্যবসার রমরমা কারবার। পরিত্যক্ত হওয়ার সুযোগ নিয়ে স্টেশনটিকে এখন পুরোপুরি একটি অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডে রূপান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে মাদারবাড়ী মুখে রেললাইন হয়ে হালিশহর সিজিপিওয়াই ইয়ার্ডের সাথে যুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি এখন প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দখলে। বারবার উচ্ছেদ অভিযানের কথা শোনা গেলেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে তা বারবার থমকে যায়। অভিযোগের আঙুল সরাসরি উঠেছে স্টেশনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পোস্টিং হাবিলদার পংকজ দেবনাথের দিকে। একজন নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে যেখানে রেলওয়ের রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করার কথা, সেখানে পংকজ দেবনাথের প্রত্যক্ষ মদদে স্টেশনের ভেতরে গড়ে উঠেছে গাড়ির গ্যারেজ, ভাঙ্গারির দোকান, লেদ কারখানা ও ওয়ার্কশপ।

​স্টেশন এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল গেটটি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং প্ল্যাটফর্মের ওপর দখলদাররা সারি সারি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান পার্ক করে রেখেছে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে এটি একটি সরকারি রেলওয়ে স্টেশন। অনুসন্ধানে জানা যায়, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও মাঝির ঘাট ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতির নাম ভাঙিয়ে এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই সিন্ডিকেট প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতি মাসে সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে প্রায় ৩৫০টি গাড়ি থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পার্কিং ও মেরামতের গ্যারেজ থেকে বছরে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়, যার একটি বড় অংশ চলে যায় পংকজ রায়সহ সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে।

আওয়ামী সরকার থাকাকালীন সময়ে রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর অঘোষিত ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত পুরো রেল অঙ্গনে। এর আগে চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশন থাকাকালীন সময়ে এই আওয়ামী এমপির নাম ভাঙ্গিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশনের যতো টিকেট কালোবাজারি সম্পূর্ণটাই ছিলো তার নিয়ন্ত্রণে। তার হাত এতো উপর মহলে যে তার বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আওয়ামী এমপির প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সংবাদ কর্মীকে চাকুরিচ্যুত করেছেন। এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গা ঢাকা দিয়ে বদলি হন এসআরবি ষ্টেশনে। কিন্তু সেখানেও থেমে নেই তিনি।

জ্বালানি সংকটের মধ্যে এসআরভি ষ্টেশন এরিয়াতে অবৈধ তেলের একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন এই হাবিলদার। স্টেশনে থাকা ট্রেনের বগি, চাকা ও বিভিন্ন মূল্যবান লোহার সরঞ্জাম প্রতিদিন একটু একটু করে চুরি হয়ে যাচ্ছে, যার নেপথ্যেও পংকজ দেবনাথ হাত রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ওয়ার্কশপ কর্মী জানান, এখানে ব্যবসা করতে হলে শুরুতেই মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয় এবং প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। এমনকি রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসার খবরও পংকজ রায় ও তার সহযোগীরা আগেভাগেই সিন্ডিকেটকে পৌঁছে দেন, যাতে তারা সাময়িকভাবে ট্রাক সরিয়ে নিতে পারে।

​হাবিলদার পংকজ দেবনাথের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিমের দাপট দেখিয়ে সহকর্মী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে আড়াল করতে তিনি এসআরবি স্টেশনকে বেছে নিলেও তার অপকর্ম থামেনি। সেখানে মাদক কেনাবেচা এবং চোর চক্রের সাথে তার গভীর সখ্যতা রয়েছে বলে জানা গেছে। স্টেশনের সীমানার ভেতর গড়ে তোলা হয়েছে পোড়া তেলের আড়ত ও স্ক্র্যাপের দোকান, যা পুরো এলাকাটিকে একটি বাণিজ্যিক বস্তিতে পরিণত করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পংকজ দেবনাথ বলেন, আমি কোন ধরনের অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত না। একটি সিন্ডিকেট এসব করছে, আমাকে সরানোর জন্য।

রেলের শত শত কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ এভাবে অরক্ষিত পড়ে থাকলেও রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নীরবতা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা যে কতটা ঠুনকো হতে পারে, এসআরবি স্টেশন তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এই বিশাল লুটপাট ও দখল বাণিজ্য বন্ধ করতে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ