চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘বেআইনি, পক্ষপাতমূলক ও আরোপিত’ দাবি করে আগামী ২৩ মে নির্ধারিত নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। একই সঙ্গে চেম্বারের সদস্যদের ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২২মে) নগরের রেডিসন ব্লুতেআয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার এস এম নূরুল হক এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী আন্দোলনের মুখে চিটাগাং চেম্বারের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগে বাধ্য হয় এবং সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে আন্দোলনের দাবির প্রেক্ষিতে সদস্য তালিকা যাচাই-বাছাই করে অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট গ্রুপের ভুয়া সদস্য এবং তদন্ত প্রতিবেদনে অকার্যকর ঘোষিত টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপগুলোকে বাদ দিয়ে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে তার অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল জালিয়াতির মাধ্যমে এসব সংগঠনকে ব্যবহার করে ছয়জন পরিচালককে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার ব্যবস্থা করে। এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি এফবিসিসিআই সালিশী ট্রাইব্যুনাল-এ ১১/২০২৫ নম্বর আবেদন করেন।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে শুনানি চলাকালে চেম্বারের দুই সদস্য নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করলে ট্রাইব্যুনাল শুনানি কার্যক্রম স্থগিত রাখে। পরবর্তীতে মামলাটি আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ালে মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চার সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দেন।
এস এম নূরুল হকের দাবি, ওই নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল পূর্বের নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে নতুন তফসিল ঘোষণার নির্দেশ দেয় এবং বাণিজ্য সংগঠন আইন, কোম্পানি আইন ও আয়কর আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলে।
কিন্তু এরই মধ্যে গত ১৮ মে নির্বাচন বোর্ড হঠাৎ করে আগামী ২৩ মে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক আগ মুহূর্তে ব্যবসায়ীরা এখন সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক ব্যবসায়ী হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এই পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নির্বাচন আয়োজন করলে অধিকাংশ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন তফসিল ঘোষণার প্রয়োজন থাকলেও পুরোনো তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন আদালতের নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার পাশ কাটিয়ে একটি ‘নামকাওয়াস্তে নির্বাচন’ আয়োজনের চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। পরে অপর পক্ষ চেম্বার জজ আদালতে গিয়ে ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ নেয়। একই সঙ্গে আগামী ৮ জুন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ অবস্থায় আগামীকালের নির্বাচন আয়োজনকে “জোরপূর্বক” উল্লেখ করে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে চেম্বারের সদস্যদেরও ভোটদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জসিম উদ্দিন চৌধুরী, ডাঃ এটিএম রেজাউল করিম, আহমেদুল আলম চৌধুরী (রাসেল), মোহাম্মদ আইয়ুব, এস এম কামাল উদ্দিন, কাজী ইমরান এফ রহমান, কামরুল হুদা, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোস্তাক আহমেদ, আহমেদ রশীদ আমু, নুরুল আবছার, মোঃ আজিজুল হক, মোঃ রাশেদ আলী, মোঃ মুসা, মোঃ আরিফ হোসেন ও মোঃ হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা ও চলমান আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা চেম্বারের ইতিহাসে ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ হিসেবে বিবেচিত হবে।