ওয়ানডে সিরিজে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা সুখকর হলো না বাংলাদেশের। ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১৩১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে স্বাগতিকদের। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কুপার কনোলির ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ১০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ছন্দ খুঁজে পায়নি স্বাগতিকরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৯ ওভারে ১৩১ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ছিল হতাশার ছাপ। টপ অর্ডারের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। সাইফ হাসান ২০, সৌম্য সরকার ১৭, তানজিদ হাসান ১০ এবং অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় করেন মাত্র ৮ রান। মিডল অর্ডারেও ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত থাকে। পারভেজ হোসেন ইমন ও অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাকলাইন করেন ১০ রান করে, আর শামীম হোসেন ফেরেন মাত্র ১ রান করে।
দলের বিপর্যয়ের মধ্যে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন শেখ মেহেদী হাসান। টেলএন্ডারদের নিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়ে তিনি দলের সংগ্রহকে তিন অঙ্কের ঘরে নিয়ে যান। ২৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। শেষ উইকেটে মোস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ১২ বলে ২৩ রানের জুটি গড়ে দলের স্কোর ১৩১-এ পৌঁছে দেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিস ও লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। দুজনই ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ম্যাট রেনশ নেন ২টি উইকেট।
১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। শরিফুল ইসলামের বলে জশ ইংলিশ ৫ রানে বোল্ড হওয়ার পর মোস্তাফিজুর রহমান ফেরান অধিনায়ক মিচেল মার্শকে। তবে বাংলাদেশের কম সংগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
৩৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর কুপার কনোলি ও টিম ডেভিড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। কনোলি মাত্র ২৭ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসই মূলত অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ভিত গড়ে দেয়। টিম ডেভিড করেন ২০ রান।
শেষ দিকে বাংলাদেশ আরও কয়েকটি উইকেট তুলে নিলেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। ম্যাট রেনশ ও অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরী ১৮ রান করে করেন। জোয়েল ডেভিস ও জাভিয়ের বার্টলেট অপরাজিত থেকে ১৯.২ ওভারে দলের জয় নিশ্চিত করেন। বার্টলেটের বাউন্ডারিতেই শেষ হয় ম্যাচ।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে অভিষেক ম্যাচে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ২টি উইকেট নিলেও ছিলেন খরুচে। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।
ম্যাচ শেষে গ্যালারিজুড়ে ছিল হতাশার ছাপ। সকালে আর্জেন্টিনার জয়ে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের অনেকেই আশা করেছিলেন দিনের দ্বিতীয় আনন্দ হিসেবে দেখবেন বাংলাদেশের জয়। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ফলে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হার দিয়েই যাত্রা শুরু করতে হলো টাইগারদের।এই সংস্করণটি সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা নিউজ ফেসবুক পেজে প্রকাশের উপযোগী করে পুনর্লিখন করা হয়েছে।