দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখতে রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance) ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চ্যানেলে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
১৬ জুন (মঙ্গলবার) প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর চ্যানেল দিয়ে নিয়মিত কয়লাবাহী জাহাজ চলাচল করছে। একই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজের নিয়মিত চলাচলও শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত পলি জমার কারণে চ্যানেলের বিভিন্ন অংশে নাব্যতা কমে যাওয়ায় নির্ধারিত গভীরতা বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে চ্যানেলের নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং বাণিজ্যিক, জ্বালানিবাহী ও বৃহৎ আকারের জাহাজের নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মাতারবাড়ী চ্যানেলের বর্তমান মরফোলজিক্যাল অবস্থা এবং পলি পরিবহনের ধরণ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ট্রেইলিং সাকশন হপার ড্রেজার (Trailing Suction Hopper Dredger-TSHD) এ ধরনের কাজের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চীনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন TSHD King Copper ড্রেজারের মাধ্যমে চ্যানেলে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ড্রেজারটি চ্যানেলের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা পলি অপসারণের মাধ্যমে নির্ধারিত গভীরতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘমেয়াদে তা বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই কার্যক্রমের ফলে চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে বড় আকারের জাহাজ চলাচল আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চ্যানেলের নির্ধারিত গভীরতা বজায় থাকলে বৃহৎ বাণিজ্যিক জাহাজ, কয়লাবাহী জাহাজ এবং এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ সহজে ও নিরাপদে বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে পারবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্য কার্যক্রমও গতিশীল হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবস্থার দক্ষতা, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক মান উন্নয়নে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম সহজীকরণ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।