চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, সংগ্রহ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে বাংলাদেশে জাইকার নবাগত প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় মেয়র ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলমান জাইকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানান।
জানা যায়, প্রকল্পটির আওতায় চসিকের বর্তমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা বিশ্লেষণ, চ্যালেঞ্জ চিহ্নিতকরণ, পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন, বর্জ্য হ্রাস কার্যক্রম বাস্তবায়ন, সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, ইন্টারমিডিয়েট ট্রিটমেন্ট সিস্টেম উন্নয়ন, বিদ্যমান ডাম্পসাইটের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা, নতুন ল্যান্ডফিল নির্মাণের প্রস্তুতি, পরিবেশগত শিক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা বর্জ্যের পৃথকীকরণ ও ট্রিটমেন্ট এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২১ অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশ অধিদপ্তরে প্রতিবেদন প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো চট্টগ্রামে সংস্থাটির অর্থায়নে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং সেগুলোর সফল বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা কামনা করেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনির্ভর বাণিজ্যিক রাজধানী এবং দ্রুত বর্ধনশীল মহানগর। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্প বর্জ্য উৎপন্ন হওয়ায় নগরায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাই আধুনিক, দক্ষ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, “আমি একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই। নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।”
মেয়র জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং আধুনিক সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান বর্জ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংগ্রহ, পরিবহন ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সক্ষমতা বৃদ্ধি বর্তমানে চসিকের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও দক্ষ মানবসম্পদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জাইকার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্যানিটারি ল্যান্ডফিল উন্নয়ন এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাইকার সহযোগিতা নগরীর টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জাইকার পক্ষে প্রতিনিধি হিদেকি ওসাওয়া, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আবদুল্লাহ বিন হোসেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের জাতীয় বিশেষজ্ঞ গোলাম সারওয়ারও উপস্থিত ছিলেন।