রেলপথ ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, অতীতের সরকারগুলোর নেওয়া বেশ কিছু অপরিপক্ব প্রকল্প বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রকল্পের অনেকগুলো এমন অবস্থায় রয়েছে, যা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করাও কঠিন, আবার পরিত্যাগ করাও সম্ভব নয়। ফলে সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত দিনের সরকারগুলো অনেক ক্ষেত্রে অপরিকল্পিত ও অপরিপক্ব প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এখন আমরা এমন এক অবস্থায় আছি যে, এগুলো গিলতেও পারছি না, ফেলতেও পারছি না। তাই আমাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, সড়ক খাতে দেশের প্রধান মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইভাবে রেলপথে মূল রেললাইন, ট্রেন পরিচালনা, স্টেশন আধুনিকায়ন এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান জনগণ যেন সহজে সরকারি সেবা পায় এবং সেই সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। যে প্রকল্পে অল্প সময়ে বেশি মানুষ উপকৃত হবে, সেসব প্রকল্পই বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
নেত্রকোণার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলার জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কিছু প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে, আবার কিছু নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা-মোহনগঞ্জ রেলপথে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেনের আসনসংখ্যা বৃদ্ধি, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কমিউটার ট্রেন পুনরায় চালু, নেত্রকোনার চল্লিশা, হিরণপুরসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি রেলস্টেশন পুনরায় চালু এবং জরাজীর্ণ রেলস্টেশনগুলোর সংস্কারের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, মহাপরিচালক খালেদ কনক, মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব), বাংলাদেশ রেলওয়ের মো. সুবক্তগীন, পরিচালক নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন।